• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মালয়েশিয়ায় গিয়ে যুবকের মৃত্যু, এক মাস পর ফিরল মরদেহ

কক্সবাজার প্রতিনিধি    ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৪ এ.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

মালয়েশিয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কাজলের মরদেহ শুক্রবার বিকালে কক্সবাজারের রামুর পেঁচার দ্বীপে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

প্রায় এক মাস আগে তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালেও দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে মরদেহ এসে পৌঁছায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়ির আঙিনায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। কাজলের মা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছেন। তার আকুতি-“আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই, আমার সব শেষ হয়ে গেছে।”

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার আশায় দুই মাস আগে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন কাজল। তার সঙ্গে একই এলাকার আরও দুই তরুণ-ফারুক ও জাহাঙ্গীর-বিদেশযাত্রা করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক দালাল শফির প্রলোভনে তারা বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দ্রুত কাজ ও উচ্চ আয়ের আশ্বাস দিয়ে তাদের পাঠানো হয় মালয়েশিয়ায়।

কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। কাজলের পরিবারের দাবি, একটি চক্র তাদের তিনজনকে আটক করে এবং প্রত্যেকের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। বিদেশ থেকে ফোনে নির্যাতনের বর্ণনা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বজনরা। কাজলের বড় ভাই জানান, ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজল বলতেন-“টাকা না দিলে মারছে।”

পরিবার ও এলাকাবাসী মিলে চাঁদা তোলেন। গবাদিপশু বিক্রি, জমি বন্ধক ও ধারদেনা করে চার লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই টাকা দালাল শফির হাতে তুলে দেওয়া হলেও তিনি তা নির্যাতনকারীদের কাছে পাঠাননি; বরং আত্মসাৎ করেন। ফলে টাকা না পৌঁছানোয় নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে। একপর্যায়ে মারধরের কারণে কাজলের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

এ ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, মানবপাচার ও মৃত্যুর অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে কাজলের সঙ্গে যাওয়া দুই তরুণের একজন বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরজন বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র বেকার ও দরিদ্র তরুণদের টার্গেট করছে। স্বল্প সময়ে বিদেশ পাঠানো ও ভালো আয়ের লোভ দেখিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলা হয়। বাস্তবে অনেকেই বিদেশে গিয়ে পড়ছেন জিম্মি, নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের চক্রে।

পেঁচার দ্বীপের এক বাসিন্দা বলেন, “কাজলের মতো আর কোনো মা যেন সন্তান হারায় না। দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী মাহবুব কাউসার মনে করেন, শুধু দালাল গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আন্তর্জাতিক রুটে সক্রিয় পাচার চক্র ভেঙে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি ও বৈধ চ্যানেল নিশ্চিত না করা গেলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু বন্ধ করা কঠিন হবে। কাজলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও শোকের পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তিনদিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছি : আমির হামজা
তিনদিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছি : আমির হামজা
সাংবাদিকদের সঙ্গে এড. কে আর খান পাঠান সাহের ইফতার মাহফিল
নেত্রকোণা সাংবাদিকদের সঙ্গে এড. কে আর খান পাঠান সাহের ইফতার মাহফিল
১৫ দিনেই লক্ষ্যের পথে সরকার: মির্জা ফখরুল
১৫ দিনেই লক্ষ্যের পথে সরকার: মির্জা ফখরুল