• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৮ এ.এম.
জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনাসহ ৬ নদী অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ -ছবি: সংগৃহীত

দেশের ৬টি নদী অঞ্চলের নির্ধারিত অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে। ইলিশের পোনা-জাটকা সংরক্ষণ এবং স্থায়িত্বশীল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর আওতায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ নির্দিষ্ট নদী এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এবং হাইমচরের চরভেরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিস্তীর্ণ নদীপথে কোনো জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে নামলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাঁদপুর জেলার নিবন্ধিত ৩৯ হাজার ৪০০ জেলের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করেই জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি সফল করা হবে।

তবে আইন অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে কেউ ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জাটকা রক্ষায় এ সময় কঠোর নজরদারি থাকবে। অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অভয়াশ্রম এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান মনে করেন, ইলিশ উৎপাদন টেকসইভাবে বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়; জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তার মতে, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে হলে জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং সহায়তা কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান জানান, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা নিধন বন্ধে নৌপুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। চাঁদপুর নৌসীমার মধ্যে কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নৌপুলিশের কোনো সদস্য অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বেশি ইলিশ পেতে হলে এখন জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সরকার ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীর নির্দিষ্ট অভয়াশ্রম এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগে এ বছরের কর্মসূচিও সফল হবে এবং ইলিশ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমান শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রাহমান শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন
১০ মার্চ বগুড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১০ মার্চ বগুড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ভূমিসেবার নির্ধারিত ফি সাইনবোর্ডে টাঙানোর নির্দেশ
ভূমিসেবার নির্ধারিত ফি সাইনবোর্ডে টাঙানোর নির্দেশ