• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে রেকর্ড

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এখন আর শুধু সীমান্তের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।

রোববার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন রেকর্ড দেখা গেছে। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ২২ ডলারে। গত এক সপ্তাহেই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুট এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। একদিকে রপ্তানি বন্ধ থাকায় কুয়েত, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংরক্ষণাগারে তেল জমে যাচ্ছে, অন্যদিকে হামলার আশঙ্কায় কিছু দেশ উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো।

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যাসের দাম গ্যালনপ্রতি ৪৭ সেন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডিজেলের দামও দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠবে।

এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ভোরে তেহরানের একটি তেলের ডিপো ও একটি পেট্রোলিয়াম স্থানান্তর কেন্দ্র ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব স্থাপনা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে তেল শিল্পে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে চীন যদি ইরান থেকে তেল না পায়, তাহলে তারা বিকল্প বাজারে ঝুঁকবে, যা তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের বাজার আবার স্বাভাবিক হতে পারে। যদিও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই আশাবাদ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। এই সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও কিছুটা বেড়েছে। রোববার প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি।

ভিওডি বাংলা/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ১২ জাহাজ
হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ১২ জাহাজ
বাজার মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকা কমল
ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে দরপতন: বাজার মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকা কমল
৮ মার্চকে নারী দিবস উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
৮ মার্চকে নারী দিবস উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক