সলিমপুর অভিযানে কী ব্যবহার করেছিল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী

সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩,১৮৩ জন সদস্যের অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দিনভর চালানো বিশেষ অভিযান ঘিরে কৌতুহলের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। অভিযানে চোখ ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে অভিযান মনিটরিং করেছেন বলে তার দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
অভিযানে থাকা একাধিক কর্মকর্তা ভিওডিবাংলাকে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই গহীন জঙ্গলে রক্তপাতহীন অভিযান পরিচালনা করতে ব্যবহার করা হয় ৩টি হেলিকপ্টার, ১২টি ড্রোন, ১৫টি এপিসি (অত্যাধুনিক প্যান্ট্রোল যান), র্যাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩টি ডগ স্কোয়াড।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরির অভিযোগে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শেষ হয় সন্ধ্যায়। আটক করা হয় ১২ জনকে।
জানা গেছে, অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ১৪৬ জন সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর ৮০০ জন সদস্য, আরআরএফ চট্টগ্রামের ৪০০ জন সদস্য, ফেনী জেলা পুলিশের ১০০ জন সদস্য, পার্বত্য জেলার ৩০০ জন, এপিবিএন ৩৩০ জন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১২২ জন সদস্য এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৩৭১ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৩,১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন সরেজমিন থেকে সার্বিক অভিযান তদারকি ও দিকনির্দেশনা দেন।
তল্লাশিকালে একটি পিস্তল ও একটি এলজি, ৪টি কার্তুজ, ১১টি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র ১৭টি, সিসি ক্যামেরা ১৯টি, ডিভিআর ২টি, পাওয়ার বক্স ১টি ও একটি বাইনোকুলার পাওয়ার তথ্য প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি-উপকরণ এলাকায় নজরদারি স্থাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হতো। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঢাকার বাসিন্দারা এই অভিযানের আপডেট পেতে মোবাইলে নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘাটছিলেন। কেউ কেউ টিভিতে চোখ রাখেন দিনভর। চট্টগ্রামসহ পার্বত্য এলাকায় যাদের স্বজন রয়েছেন, তারা মোবাইল ফোনে জানতে চাচ্ছিলেন সীতাকুণ্ডের খবর। ফোন পেয়েছেন ঢাকার অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকরাও।
ভিওডি বাংলা/আরআর







