• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আমার কাছে সরকারি-বিরোধী দল আলাদা কিছু নয়: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংসদের অভিভাবক হিসেবে তার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কোনো মর্যাদা রাখে না। তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, সংসদের কার্যক্রমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দলের কার্যকর ও গঠনমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থই হবে এই সংসদের মূল চালিকাশক্তি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সংসদকে দেশের সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র নিয়ে সংসদ সদস্যদের কাজ করতে হবে।”

তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল, পরবর্তীতে বিভিন্ন স্বৈরশাসক ক্ষমতায় আসলেও জনগণ বারবার গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, “সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।” স্পিকার আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

নিজের ১০টি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “গত ১২ মার্চের নির্বাচনটি আমার অভিজ্ঞতায় সবচাইতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। জনগণ অধীর আগ্রহে এই নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখার অপেক্ষায় আছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করা প্রতিটি সংসদ সদস্যের মৌলিক দায়িত্ব।”

বিরোধী দলের ভূমিকার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বিরোধী দল যাতে কার্যকরভাবে সংসদে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। নিরপেক্ষতার খাতিরে দলীয় পদ ত্যাগ করেছি। এখন থেকে আমার কাছে সরকারি বা বিরোধী দল বলে আলাদা কিছু থাকবে না; আমি সবার সহযোগিতা কামনা করি।”

স্পিকার আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। এই লক্ষ্য অর্জন বর্তমান সংসদের সকল সদস্যের দায়িত্ব। তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনতার স্বপ্ন পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে তিনি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
শ্রীলঙ্কায় সার্কের সিভিওদের সভা শুরু
শ্রীলঙ্কায় সার্কের সিভিওদের সভা শুরু
এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী
এসএসএফের পিস্তল দিয়ে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী