বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করল, অভিযোগ তিনটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সময় রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। বিষয়টি নিয়ে বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রপতি তিনটি কারণে অপরাধী, তার বক্তব্য আমরা এই মহান সংসদে শুনতে পারি না।”
বুধবার (১২ মার্চ) তিনি বলেন, “এই সংসদ জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিল তারা যেন এখানে কোনো বক্তব্য রাখতে না পারে।”
শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রথমত, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি কোনো অবস্থান নেননি। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি সেই সময়ের কোনো খুনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করেননি এবং কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।”
দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই বক্তব্য অস্বীকার করেন। শফিকুর রহমান দাবি করেন, এতে তিনি জাতির সামনে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।
তৃতীয় অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদ ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি একটি অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করা রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অনভিপ্রেত অবহেলা হিসেবে দেখছেন তিনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, “গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও রাষ্ট্রপতি সেই অনুযায়ী কোনো উদ্যোগ নেননি। এতে তিনি জনগণকে অসম্মান করেছেন।”
এই তিন কারণের ভিত্তিতে তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে রাজি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য বন্ধ করার আহ্বান জানানো হলেও তাদের সেই আহ্বান কার্যকর হয়নি।
তিনি সংযোজন করেন, “আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও সংসদে কোনো অন্যায় হলে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







