নিষেধাজ্ঞা শিথিল: উন্মুক্ত হচ্ছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলবাজারে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল বাজারে আসতে পারে।
এক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর সিনিয়র ব্যবস্থাপক ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে বর্তমানে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।
অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট জানায়, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেলের মধ্যে, যা বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় প্রায় দুই সপ্তাহের সরবরাহের সমান।
এশিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে এবং জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে।
তেল কিনতে আগ্রহী দেশগুলো
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর দেশটির স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।
চীনের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান এবং তুরস্ক আগে ইরানি তেলের উল্লেখযোগ্য আমদানিকারক ছিল।
বর্তমানে ভারতের তেলের মজুদ তুলনামূলক কম হওয়ায় দেশটি আবারও ইরানি তেল কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশটির কয়েকটি শোধনাগার সূত্র জানায়, তারা ইরানি তেল আমদানিতে আগ্রহী হলেও সরকারের নির্দেশনা এবং অর্থ পরিশোধের শর্তাবলি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
আমদানিতে জটিলতা
তবে ইরানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অন্যতম। পাশাপাশি সমুদ্রে থাকা তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে সংরক্ষিত।
এছাড়া পূর্বের কিছু ক্রেতা সরাসরি ইরানি তেল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর থেকে তেলের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/আ







