দৌলতদিয়ায় বাসডুবি:
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছেলে হারিয়ে আজিজের বেদনাদায়ক আর্তনাদ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে গত ২৫ মার্চ সাভারগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এই দূর্ঘটনায় গার্মেন্টস কর্মী আব্দুল আজিজের ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০) এবং একমাত্র ছেলে আবদুর রহমান (৬) নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তার খালা শাশুড়ি নাসিমা বেগম (৪০)ও মারা গেছেন।
আব্দুল আজিজ জানান, ঈদের ছুটিতে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদ শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ২৫ মার্চ বিকালে তারা গান্ধীমারা বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারগামী বাসে ওঠেন। রাজবাড়ীর নতুন বাজার ও বড়পুল স্টপেজ পেরিয়ে বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটের দিকে এগোয়। কিন্তু ফেরিতে ওঠার জন্য সড়কে অবস্থান করাকালীন বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়।
“বাসে ঝাঁকুনি লাগল, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা পানিতে পড়ে। আমি স্ত্রী ও সন্তানের হাত ধরার চেষ্টা করি, কিন্তু ধরে রাখতে পারিনি। কীভাবে ভেসে উঠেছি, মনে নেই। চোখের সামনে তাদের ডুবে যাওয়া দেখেছি,” কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন আব্দুল আজিজ।
দূর্ঘটনার পর আব্দুল আজিজ সারা রাত পদ্মার পাড়ে ছিলেন। রাত ১২টার দিকে তিনি স্ত্রীর লাশ শনাক্ত করেন। পরদিন ভোরে একটি পুলিশ সদস্য জানায়, গেঞ্জি পরা শিশুর লাশও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি নিজের ছেলের লাশ শনাক্ত করেন।
বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। এতে প্রায় ৪৫ যাত্রী ছিলেন। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







