ইতালি যাওয়ার পথে গ্রীস উপকূলে নৌকা ডুবে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে গ্রীস উপকূলে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা ভিওডি বাংলাকে বলেন, গ্রীস উপকূলে আতালিগামী একটি নৌযান ডুবে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি। তবে কতজন বাংলাদেশি এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
এদিকে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), একই উপজেলার তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য দিয়েছেন। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ গ্রিসের বৃহত্তম এবং ভূমধ্যসাগরের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি আরও জানিয়েছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও এক শিশুও রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যাত্রাপথে মারা যাওয়া লোকদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে ভূমধ্যসাগরে ফেলা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়া সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট—সব মিলিয়ে চরম ক্লান্তিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন দক্ষিণ সুদানের পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জন মারা গেছেন, যেখানে গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৮৭।
অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়িয়েছে এবং ‘রিটার্ন হাব’ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে অমানবিক বলে সমালোচনা করেছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







