• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

দেশে কেন বাড়ছে হামের রোগী, উঠেছে নানা প্রশ্ন

রুদ্র রাসেল    ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৪ পি.এম.
গ্রাফিক্স: ভিওডি বাংলা

কয়েকটি হাসপাতালে অন্তত ২০ শিশুর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে আলোচনায় হাম রোগের প্রকোপ। ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্কও। হাম সন্দেহে গত দুদিন ধরে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। এ অবস্থায় নতুন করে হামের টিকা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে বলে ভিওডি বাংলাকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

যদিও চলতি বছরের শুরু থেকেই এই রোগটির প্রকোপের আশঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছিল। বিশেষ করে জানুয়ারির শুরুতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ঢাকার কিছু বস্তিতে রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ও শিশু চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত পর্যাপ্ত টিকা না দেওয়া, অপুষ্টি, মায়ের বুকের দুধ পানে অনিহা বা বুকের দুধ পান না করানো, প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক ঔষধ না খাওয়ানোর কারণেই নতুন করে হামের প্রকোপ শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের দুটি টিকা দেওয়া হলেও এর অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি চার বছর পরপর হামের টিকা দেওয়ার যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়, ২০২৪ সাল থেকে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২০ সালে করোনা, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে হামের টিকাদানের বিশেষ ক্যাম্পেইন হয়নি এবং এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে করার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।

তবে টিকাদান কর্মসূচি কেন হয়নি-সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরই আপাতত দায় দিচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দায়িত্বপালনকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়া হামের টিকার মান এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকা না দেওয়ার কারণে ভাইরাসের ধরণে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, এর ফলে নতুন করে হামের প্রকোপ হচ্ছে কি না— সে প্রশ্নও উঠেছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, সাধারণত ৯ মাস পূর্ণ হলে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা পায় শিশুরা। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, যারা আক্রান্ত তাদের ৩৩ ভাগ এই বয়সের আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ৯ মাসের কম বয়সীদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বাড়ছে।

এদিকে চলতি মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভেন্টিলেশনসহ আইসিইউ সুবিধার অভাবে ৩৩টি শিশুর মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। যদিও এদের ১০ থেকে ১২টি শিশু হামে আক্রান্ত ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় চলতি মাসে রাজশাহী বিভাগের ১৫৩টি রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ হচ্ছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা ২০ জন রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। তার মধ্যে ১০ জনই হামে আক্রান্ত রোগী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, জেলার সব উপজেলাতেই শিশুদের হামে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে এবং অনেকে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন।

ঢাকার শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, শিশুদের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ রোগটিতে আক্রান্ত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং সে কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছরের শুরু থেকে চারশোর বেশি রোগী হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছে, যাদের অধিকাংশের হাম শনাক্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন সেখানকার একজন কর্মকর্তা। ঢাকার এই হাসপাতালটিতে হাম, বসন্ত, ধনুষ্টংকার, কালাজ্বর ও জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জ্বালানি তেলের মজুতের খোঁজে ডিসি-এসপিরা
নজরদারিতে শতাধিক পাম্পের মালিক: জ্বালানি তেলের মজুতের খোঁজে ডিসি-এসপিরা
ডিএসসিসি: জন্ম নিবন্ধনে ঘুষ দিতে হয় ১২০০ টাকা
ডিএসসিসি: জন্ম নিবন্ধনে ঘুষ দিতে হয় ১২০০ টাকা
ফেরী ঘাটে স্বজনহারাদের আহাজারি
ফেরী ঘাটে স্বজনহারাদের আহাজারি