• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

এমটিএফই’র পাচার করা সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার খোঁজে সিআইডি

ইসমাইল হোসেন    ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৩ পি.এম.
গ্রাফিক্স: ভিওডি বাংলা

উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) নামের সেই অনলাইন প্লাটফর্মটি ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (ডলার রেট ১২০ টাকা অনুযায়ী) পাচার করেছে বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।  

তবে এ পাচারে মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কথা সিআইড জানালেও কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয়নি। এই প্লাটফর্মের মালিকরা কোথায় আছেন- সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলছে না সংস্থাটি। তবে তারা তথ্য নিচ্ছেন এবং তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সংস্থাটির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভিওডি বাংলাকে বলেছেন। 

এদিকে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ঢাকার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি (বিট কয়েন) ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ)'র মাধ্যমে পাচার হওয়া ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। সে হিসাবে ১৫ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি, যার ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম চালাচ্ছে সিআইডি। 

এই টাকা সিআইডির নামে সোনালী ব্যাংকে থাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এই টাকা যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বিট কয়েন থেকে এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপ দিয়ে তা সোনালী ব্যাংকে জমা করা হয়। 

ডিআইজি আবুল বাশার বলেন, এমটিএফই’র একটি স্কিম বা প্রজেক্টের মাধ্যমে দুই লাখ টাকার প্রতারণার শিকার হয়ে খিলগাঁও থানায় ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ এনে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী।  

তবে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সংস্থাটির তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল ডলার দেখানো হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনাই ছিল তাদের মূল কৌশল।

সিআইডি জানায়, শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। যা বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউএসডিটি (তেথার) আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্স-এ সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে এ অর্থের সঙ্গে প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে ওকেএক্স-এর লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় সিআইডি।

আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সিআইডির নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাচারকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

সব প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাবে জমা হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।

সিআইডি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সহায়তার ফলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে এই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশের মানুষ লোভের ফাঁদে পড়ে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। এসব চক্র ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগীদের টাকা, স্বর্ণালংকার, জমিজমা বিক্রি করে টাকা বিনিয়োগ করে। পরে তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। অনেকেই সামাজিক মর্যাদাসহ নানা কারণে আইনের আশ্রয় নেয় না। তাই আমি গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ করবো আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে আমাদের দেশের মানুষ সচেতন হবে।

এই চক্রের ফাঁদে পড়ে কি পরিমাণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। কারণ অনেকেই আমাদের কাছে আসেন নি। আমরা চেষ্টা করছি ভুক্তভোগীদের হারানো অর্থ আইন অনুযায়ী ফেরত দিতে।

ভিওডি বাংলা/আরআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জ্বালানি তেলের মজুতের খোঁজে ডিসি-এসপিরা
নজরদারিতে শতাধিক পাম্পের মালিক: জ্বালানি তেলের মজুতের খোঁজে ডিসি-এসপিরা
ডিএসসিসি: জন্ম নিবন্ধনে ঘুষ দিতে হয় ১২০০ টাকা
ডিএসসিসি: জন্ম নিবন্ধনে ঘুষ দিতে হয় ১২০০ টাকা
ফেরী ঘাটে স্বজনহারাদের আহাজারি
ফেরী ঘাটে স্বজনহারাদের আহাজারি