চেয়ার টেবিল কিনতে উচ্চাভিলাষী শর্ত
৬০০ কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে বিতর্ক

গত ১৫ মার্চ প্রায় ৬০০ কোটি টাকার আসবাবপত্র সরবরাহে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়ে একটি দরপত্র প্রকাশ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে যেসব শর্ত দেওয়া হয়—সে অনুযায়ী দেশের শীর্ষ স্থানীয় দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সাধারণ ঠিকাদারদের বৈষম্যহীন অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ হয়েছে—অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঠিকাদাররা।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা আলোচনা তাদের কানেও এসেছে। এ মুহূর্তে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বা প্রধান কর্মকর্তা অবসরে যাচ্ছেন, তাই ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠলেও তা সুরাহা বা সমঝোতার জন্য নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঠিকাদারদের অভিযোগের মুখে বিতর্কিত এ দরপত্রের সমালোচিত শর্তগুলোর বিষয়ে ওঠা অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে চূড়ান্ত হতে পারে এই ৬০০ কোটি টাকার দরপত্র।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অবসরে যাওয়ার কথা জানিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) ভিওডি বাংলাকে বলেন, “এখনও এ দরপত্রটি চূড়ান্ত হয়নি। আমি আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) অবসরে চলে যাচ্ছি। পরবর্তীতে যিনি এ চেয়ারে আসবেন, তিনি এ দরপত্রটি চূড়ান্ত করবেন।”
মহাপরিচালক প্রশ্ন রাখেন—আমরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত করার আগে ঠিকাদাররা প্রশ্ন না তুললেও পারতেন। তাদের অভিযোগ করার সময় এখনও আসেনি।
তবে ঠিকাদাররা বলছেন, দরপত্র প্রকাশ হয়ে গেছে। সেখানে আজগুবি শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ না করলে এই বিতর্কিত শর্তযুক্ত দরপত্র অনুযায়ী দর জমা দিয়ে সেই দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই কাজ দিয়ে দেওয়া হতো নীরবে। এই পরিকল্পনাই করেছিলো মাদ্রাসা অধিদপ্তরের দরপত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার চিহ্নিত সিন্ডিকেট। যারা ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এমন সব শর্ত যুক্ত করেছেন, যাতে তারা ছাড়া অন্যরা দরপত্রে অংশগ্রহণই না করতে পারেন বলে অভিযোগ তাদের।
একজন ঠিকাদার বলেন, “টাকার বিনিময়ে আতাত করে দরপত্রটিতে উচ্চাভিলাষী শর্ত দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি চক্র। আমরা টের পেয়ে আমাদের অধিকারের দাবি তুলে ধরতেই এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছি।”
.png)
দরপত্র আহ্বানের যে বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, তাতে যেসব শর্ত রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অংশ নিচে তুলে ধরা হলো। যেসব শর্ত এ অধিদপ্তরের অতীতের কোনো দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে ছিলো না বলে দাবি ঠিকাদারদের।
১. দরপত্রদাতাকে ফার্নিচার কারখানার জন্য হালনাগাদ পরিবেশ অনুমোদনপত্র জমা দিতে হবে। সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা প্রস্তুতকারকের থাকতে হবে।
২. সরবরাহকারীর জন্য প্রস্তুতকারকের অনুমোদনপত্র প্রয়োজন।
৩. দরপত্রদাতার নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট, সিজনিং প্ল্যান্ট এবং কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থাকতে হবে। সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা প্রস্তুতকারকের থাকতে হবে।
৪. আসবাবপত্র প্রস্তুতকারক হিসেবে দরপত্রদাতাকে অবশ্যই ISO: 9001-2015, ISO 14001-2015 এবং ISO 45001-2018 সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা প্রস্তুতকারকের থাকতে হবে।
৫. ঢাকা শহরে দরপত্রদাতার ন্যূনতম ১০টি নিজস্ব/বৈধভাবে অনুমোদিত শোরুম/সার্ভিস সেন্টার থাকতে হবে এবং ঢাকা বিভাগ ব্যতীত প্রতিটি বিভাগে কমপক্ষে ১টি নিজস্ব/বৈধভাবে অনুমোদিত শোরুম/সার্ভিস সেন্টার থাকতে হবে।
৬. দরপত্রদাতার ফার্নিচার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ সনদ থাকতে হবে।
৭. দরপত্রদাতার অবশ্যই বন পরিচালনা পরিষদের সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
৮. দরপত্রদাতার অনুরোধে ক্রয়কারী সত্তার অনুকূলে ই-জিপি সিস্টেমে নিবন্ধিত ব্যাংক দ্বারা ই-দরপত্র জামানত প্রস্তুত করা হবে। টিডিএস-এ উল্লেখিত ই-দরপত্র জামানতের পরিমাণ ব্যাংকের হেফাজতে রাখা হবে এবং লেনদেনের তথ্য ই-জিপি সিস্টেমে আপডেট করা হবে।
৯. দরপত্র জামানতের পরিমাণ হবে ২৮,৯০,০০০ টাকা (অষ্টাশ লক্ষ নব্বই হাজার টাকা), যা ‘স্কিম ডিরেক্টর, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অব মাদ্রাসা এডুকেশন স্কিম’-এর অনুকূলে জমা দিতে হবে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







