অলস চার্জারেই দিনে অপচয় ৭০ লাখ টাকা!

স্মার্টফোনে চার্জ নেই, তবুও চার্জারটি প্লাগেই লাগানো। অথবা ল্যাপটপ-পিসি ব্যবহার শেষে বন্ধ করলেও সুইচটি অফ করা হয়নি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না, কিন্তু এই ছোট অভ্যাসটিই গিলে খাচ্ছে জাতীয় সম্পদ। এক গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু চার্জার ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস অলসভাবে প্লাগে লাগিয়ে রাখার কারণে ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফ্যান্টম লোড’ বা ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’। অর্থাৎ ডিভাইস বন্ধ থাকলেও প্লাগ ইন অবস্থায় যে বিদ্যুৎ খরচ হয়।
৪ কোটি মানুষের এই মেগাসিটিতে অন্তত দেড় কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়। একটি স্মার্টফোন চার্জার ফোনে সংযুক্ত না থাকলেও গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ০.২ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। গড়ে দিনে ৪ ঘণ্টা চার্জিং সময় বাদ দিলে বাকি ২০ ঘণ্টা চার্জার অলস পড়ে থাকে। সেই হিসাবে দেড় কোটি চার্জার থেকে প্রতিদিন বিদ্যুৎ অপচয় হয় প্রায় ৬০ হাজার ইউনিট।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে রাজধানীর প্রায় ৫ লাখ বৈদ্যুতিক রিকশা। এসব রিকশার মানহীন চার্জারগুলো অলস অবস্থায় ঘণ্টায় গড়ে ২ ওয়াট বিদ্যুৎ অপচয় করে। দিনে অন্তত ১০ ঘণ্টা এই চার্জারগুলো অলস প্লাগ-ইন অবস্থায় থাকলে সেখানে অপচয় হয় আরও ১০ হাজার ইউনিট। অর্থাৎ শুধু ফোন এবং রিকশার চার্জার থেকেই দিনে প্রায় ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ স্রেফ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ১০ টাকা ধরলে, বছরে কেবল ফোন চার্জারের মাধ্যমে অপচয় হয় ২১ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং রিকশার চার্জারে গচ্চা যায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে কেবল চার্জার প্লাগে লাগিয়ে রাখার কারণে অপচয় ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট অপচয়গুলো একত্রিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে বড় চাপ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে বুয়েটের একজন শিক্ষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, "আমরা মনে করি সুইচ অন থাকলে কী বা হবে! কিন্তু কয়েক কোটি গ্রাহক যখন একই কাজ করেন, তখন সেটি মেগাওয়াট পর্যায়ে চলে যায়। বিশেষ করে আমদানিকৃত নিম্নমানের চার্জারগুলো বেশি বিদ্যুৎ টানে। আমাদের অভ্যাস পরিবর্তন করলে একটি বড় পাওয়ার প্ল্যান্টের লোড সাশ্রয় করা সম্ভব।"
এই বিপুল পরিমাণ অপচয় রোধ করতে পারলে সেই অর্থ দিয়ে জনকল্যাণমূলক অনেক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। যেমন: উপজেলা পর্যায়ের ১০০ শয্যার ১০০টি হাসপাতালের বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব। প্রায় ১০ থেকে ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক বছরের বিদ্যুৎ খরচ অনায়াসেই চালানো যেত। একটি নির্দিষ্ট উপজেলার হাজার হাজার ঘরে কয়েক মাস বিনামূল্যে আলো জ্বালানো সম্ভব হতো।
বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহারের পাশাপাশি কাজ শেষে চার্জার বা ডিভাইসের সুইচ বন্ধ করার মতো ছোট একটি অভ্যাসগত পরিবর্তনই পারে জাতীয় পর্যায়ে বিশাল সাশ্রয় নিশ্চিত করতে।
ভিওডি বাংলা/এমএস/আ







