• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
জুয়া প্রতিরোধসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া অনুমোদন পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই নগরী সম্ভব নয় বিডার ভরসা দেশি বিনিয়োগে ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, তুমুল বিতর্ক চোখের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অপটোমেট্রি পেশার স্বীকৃতি প্রয়োজন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সদরঘাটে নৌ পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার মাদক প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ১২ হাজার কোটি টাকা বনদস্যুতা নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে: কোস্ট গার্ড ডিজি

চলতি অর্থবছরে ট্রেজারি বিল-বন্ডে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ সুদ ও কর সুবিধা আকৃষ্ট করছে বিনিয়োগকারীদের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে যা চলতি অর্থবছরের শুরুতে কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আবারও কমতে শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারি শেষে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মক অবস্থায় নেমেছে; অর্থাৎ বিক্রির তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ বেশি হয়েছে। ওই মাসে নিট বিক্রি হয়েছে ঋণাত্মক ৫৫৫ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতেই নিট বিক্রি কমেছে এক হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। জানুয়ারিতেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যখন নিট বিক্রি ছিল এক হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। যদিও আগের ছয় মাসে তুলনামূলক ভালো বিক্রির কারণে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, জানুয়ারি শেষে তা ৬১০ কোটি টাকায় নেমে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সঞ্চয়পত্র থেকে বিনিয়োগ কমার মূল কারণ হলো ট্রেজারি বিল ও বন্ডে অধিক সুবিধা। স্বল্পমেয়াদি ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলেই বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয়।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা একজন বিনিয়োগকারীর জন্য ৫০ লাখ টাকা হলেও ট্রেজারি বিল ও বন্ডে কোনো সীমা নেই। পাশাপাশি, ট্রেজারি সিকিউরিটিজ থেকে প্রাপ্ত মুনাফায় করের বোঝাও কম বা শূন্য থাকায় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় সরকারের ঋণ চাহিদা কম থাকায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও কম ছিল। তবে বর্তমানে ঋণের প্রয়োজন বাড়ায় এসব সিকিউরিটিজে সুদের হার বেড়ে গেছে, ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে বিনিয়োগ সরছে।

সরকার প্রতিবছর বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেয়। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রায় ১২,৫০০ কোটি টাকার নিট ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত অর্থবছরে ১৪,০০০ কোটি টাকার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিট ঋণ ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়ায় ৬,০৬৩ কোটি টাকায়।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে এক লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মার্চ পর্যন্ত সরকার ইতোমধ্যেই নিয়েছে ১,০৬,০৫১ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়েছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.০৩ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম ন্যূনতম স্তর।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদহার, বিনিয়োগ সীমাবদ্ধতা না থাকা ও কর সুবিধা থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রের তুলনায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ঝুঁকছেন। এটি সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী: ওয়েব
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন
তামাকপণ্য সহজলভ্য হলে রাজস্ব আয় কমবে: আহছানিয়া মিশন
প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল: সিপিডি
প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল: সিপিডি