• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাজধানীর নিউমার্কেটে অবৈধ ২০ দোকান, ৪০ কোটি টাকার লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪১ পি.এম.
রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেট। ছবি: ভিওডি বাংলা

ঈদের প্রাক্কালে ভয়াল আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছিল রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেট। ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল ভোররাতের সেই অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় অসংখ্য দোকান, স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসা। কিন্তু সেই ক্ষত শুকানোর আগেই আবারও একই স্থানে গড়ে উঠেছে পরিকল্পনাবহির্ভূত ২০টি দোকান—যা নতুন করে উসকে দিয়েছে অনিয়ম, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও রহস্যজনক অনুমোদনের প্রশ্ন।

অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৪০ কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে রাতারাতি এসব দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে এই অবৈধ স্থাপনা তৈরি হলো, তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশ্ন। অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করা সেই জায়গাই আবার দখল হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

ঈদকে সামনে রেখে ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল ভোররাতে নিউ সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি ইউনিট টানা ২৭ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে উঠে আসে—মার্কেটের ভেতরে পরিকল্পনাবহির্ভূত স্থাপনা ও অবৈধ দোকান অগ্নিনির্বাপণ কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কেটের গেট সংলগ্ন অংশে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রবেশপথ বজায় রাখার জন্য খোলা জায়গা রাখা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই জায়গা দখল করে দ্বিতীয় তলায় ১০টি এবং তৃতীয় তলায় আরও ১০টি—মোট ২০টি দোকান নির্মাণ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে এসব দোকানের কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পর এসব অবৈধ দোকান সরিয়ে ফেলার কথা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই একই স্থানে পুনরায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে কারণ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বলছে, এ ধরনের কোনো নির্মাণের অনুমোদন তারা দেয়নি। এমনকি রাজস্ব বিভাগও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সূত্র জানিয়েছে, মার্কেট কমিটি ও স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার যোগসাজশে প্রায় ৪০ কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে রাতারাতি এসব দোকান তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণ শেষে দোকানগুলো বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউমার্কেট এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সালাউদ্দিনকে এই ঘটনার মূলহোতা হিসেবে দায়ী করা হলেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, আইন অমান্য করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, মানুষ ও বৈধ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ফায়ার সার্ভিসের রোডম্যাপ এবং সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী এসব মার্কেট পরিচালিত হবে। অনিয়ম বা অবৈধভাবে কিছু গড়ে তোলা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতার পরও একই স্থানে পুনরায় অবৈধ দোকান নির্মাণের অভিযোগে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরুরি নির্গমন পথ ও খোলা জায়গা দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভিওডি বাংলা/খতিব/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হামের টিকা বঞ্চিত ৫–৮ লাখ শিশু, ভবিষ্যতে বড় প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি
হামের টিকা বঞ্চিত ৫–৮ লাখ শিশু, ভবিষ্যতে বড় প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি
মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে ডিজেল, সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি
মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে ডিজেল, সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি
নতুন পানি চুক্তি করতে যাচ্ছে ঢাকা-দিল্লি
নতুন পানি চুক্তি করতে যাচ্ছে ঢাকা-দিল্লি