সারাদেশে অভিযানে উদ্ধার ৪.৬৯ লাখ লিটার অবৈধ জ্বালানি

সারাদেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, পাচার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা ঠেকাতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করেছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গত ৩ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ডিজেল, যার পরিমাণ ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার। এছাড়া ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ সময়ের মধ্যে মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধ মজুত ও সরবরাহের দায়ে ৩ হাজার ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাও অস্থির হয়ে পড়ে। এসব অনিয়ম রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া জ্বালানি তেল সরকারি বিধি অনুযায়ী সংরক্ষণ ও পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে অবৈধ মজুত, চোরাচালান ও সরবরাহে কারসাজি প্রতিরোধে প্রশাসন তৎপর থাকবে।
ভিওডি বাংলা/জা







