• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে ২ বছরের নিষিদ্ধ মাবিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক    ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৩ পি.এম.
বাংলাদেশের স্বর্ণজয়ী ভারত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত:ছবি-ভিওডি বাংলা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম সফল ও পরিচিত নাম ভারত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত দুই বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। ডোপ টেস্টে তার শরীরের নমুনায় নিষিদ্ধ উপাদান শনাক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ব ডোপিংবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা)। এই সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জানিয়ে দিয়েছে।

২০১৬ ও ২০১৯ সালের দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণপদক জয় করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন মাবিয়া আক্তার। বিশেষ করে ২০১৬ সালে তার স্বর্ণজয়ের পর আবেগঘন কান্নার দৃশ্য বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে। সেই সফল ক্রীড়াবিদই এবার ডোপ ইস্যুতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে গত ২৯ অক্টোবর ঢাকায় মাবিয়ার ডোপ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এবং এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়াবিদদের নিয়মিত ডোপ পরীক্ষা করা হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর ওই নমুনায় নিষিদ্ধ উপাদান পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে ওয়াডার নিয়ম অনুযায়ী তাকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যা কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে। এই সময়ে তিনি কোনো আন্তর্জাতিক কিংবা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।

শাস্তির সিদ্ধান্তকে অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে মাবিয়া জানিয়েছেন, তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তার ভাষায়, তিনি এর আগে বহু আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়েছেন এবং একাধিকবার ডোপ টেস্ট দিলেও কখনোই পজিটিভ হননি।

তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে পায়ের ব্যথা ও ফোলাভাবের কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন। তার মতে, সেসব ওষুধের জন্যই এই ফলাফল এসেছে। মাবিয়া বলেন, ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে তার প্রেসক্রিপশন ছিল এবং তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই তা ব্যবহার করেছেন।

তবে ডোপিংবিরোধী নিয়ম অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদদের জন্য নির্ধারিত তালিকাভুক্ত ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক-এ বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্রীড়া চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্যগত কারণে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত কোনো ওষুধ প্রয়োজন হলে তা ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন বা ডোপিংবিরোধী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হয়। অনুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক সংস্থার চিকিৎসক প্যানেল সেই ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

একজন বাংলাদেশি ক্রীড়া চিকিৎসক এ বিষয়ে বলেন, ক্রীড়াবিদের স্বাস্থ্য সর্বাগ্রে হলেও ডোপিং নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ওষুধ গ্রহণ করলে তা নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়, এমনকি চিকিৎসাজনিত কারণ থাকলেও।

ভারত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার আওতাধীন। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সরাসরি সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি মাবিয়াকে দেশের সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই কঠিন সময়ে তাকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং পুনরায় অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা এই ঘটনাকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে খেলোয়াড়, কোচ এবং চিকিৎসকদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করা হবে। তার মতে, ডোপিং বিষয়ে জ্ঞানের ঘাটতি ও যোগাযোগের দুর্বলতা অনেক সময় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব প্রতিযোগিতার আগে খেলোয়াড়দের জন্য ডোপিং শিক্ষা ও নির্দেশনা আরও জোরদার করা হবে।

বিশ্ব ডোপিংবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এবং ১৪০টিরও বেশি দেশের সহযোগিতায় পরিচালিত একটি বৈশ্বিক সংস্থা। খেলাধুলায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা কঠোর ডোপিং নীতি অনুসরণ করে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সন্ধ্যায় প্রথম-দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসবেন বিসিবি সভাপতি
সন্ধ্যায় প্রথম-দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসবেন বিসিবি সভাপতি
এ মাসের শেষে মাঠে গড়াচ্ছে প্রিমিয়ার লীগ, থাকছে নতুনত্ব
এ মাসের শেষে মাঠে গড়াচ্ছে প্রিমিয়ার লীগ, থাকছে নতুনত্ব
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ দুই ম্যাচের সূচি ঘোষণা
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ দুই ম্যাচের সূচি ঘোষণা