প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান:
জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় এখনো দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লেও সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে জনগণের ওপর চাপ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ খাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে যাতে জনগণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে।”
তিনি আরও বলেন, একটি মহল দেশের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা জরুরি। বিভাজন ও অপ্রয়োজনীয় বিরোধ এড়িয়ে দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ইতিহাস ও জাতীয় নেতৃত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান স্মরণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এবার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি জাইমা রহমান। দেশ গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এছাড়া মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরী, বশির আহমেদ ও কাজী ফজলুর রহমান। তাদের পক্ষে স্বজনরা পুরস্কার গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জীবিতদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে হানিফ সংকেত (এ কে এম হানিফ), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় সাইদুল হকসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এ বছর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এ সম্মাননা লাভ করে।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও এমন অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







