• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

যে কারণে সারাদেশে হচ্ছে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা লোডশেডিং

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৫ এ.এম.
প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে জেলা শহরগুলোতে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে নেমে এসেছে।  সেখানে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে ১০ ঘণ্টার বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে হিমশিম অবস্থায় পড়তে হয়েছে বিতরণ সংস্থাগুলোকে। এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও গড়ে দুই ঘণ্টার বেশি হচ্ছে সারা দেশে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে কোথাও কোথাও আট-নয় ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

চট্টগ্রামে সাত-আট ঘণ্টা লোডশেডিং 

চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শিল্প-কারখনায়ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে নগরের চেয়েও বিদ্যুতের লোডশেডিং বেশি হচ্ছে গ্রামে। ২২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। 

নগরের পাঁচলাইশ থানার সংগীত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, ‌‘গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং অসহনীয়ভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। একবার গেলে দুই ঘণ্টা পর আসছে। দিনে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গরমের মধ্যে অসহনীয় লোডশেডিং আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এটি দ্রুত নিরসন জরুরি।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন বলেন, ‘আগ্রাবাদ কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামসহ তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম চলে। গত চার-পাঁচ দিন ধরে দিনে চট্টগ্রামে ছয়-সাত ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। অফ-পিক আওয়ারে ১১১ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হলেও পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় লোডশেডিং আরও বেশি হচ্ছে।’

বিউবো সূত্রে জানা গেছে, বিউবোর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে পিক-আওয়ার সাধারণত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে অফ-পিক আওয়ার হলো রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত, তখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। এর মধ্যে পিক-আওয়ারে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ এপ্রিলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই দিন অফ-পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮৪.০৯ মেগাওয়াট এবং পিক-আওয়ারে ছিল ১ হাজার ৪৩২.৭৩ মেগাওয়াট। ওই দিন অফ-পিক আওয়ারে ১১১.০৯ এবং পিক-আওয়ারে ১৭০.৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং ছিল। 

বরিশালে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং

বরিশালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাভের চেয়ে লোকসানের বোঝাই ভারী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

নগরীর রূপাতলির ৩৩ কেভি সাবস্টেশন কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বরিশাল ও ঝালকাঠিতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৪২ মেগাওয়াট। এ কারণে পিক-আওয়ার ও অফ-পিক আওয়ারে অন্তত ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। পিক-আওয়ারে কিছুটা বেশি থাকে।

এ নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও সার্কুলার রোডের বাসিন্দা সাদেক হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি। তারা জানিয়েছেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। এই কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় শিশুদের নিয়ে। আর বিদ্যুৎ না থাকলে কত সমস্যা সৃষ্টি হয় তা বলে শেষ করা যাবে না। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

নগরবাসীর চেয়েও বেশি সমস্যায় থাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী মিনাল কান্তি সাহা ও মোহাম্মদ শাহিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে সরকার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে। ওই নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবসায়ীরা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। এই সময়ে অন্তত চার বার লোডশেডিং দেওয়া হয়।  প্রতিবারে এক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লোডশেডিং থাকলে ক্রেতারা আসেন না। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন দোকানের খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থা থেকে কবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে, তারও কোনও সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের দায়িত্বশীলরাও ঠিক করে কিছু বলে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর কুমার স্বর্ণকার বলেন, ‘আমার আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। আমাকে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ৫০ মেগাওয়াট। এতে করে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।’ 

বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩৯ মেগাওয়াট। আমাকে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ২১ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় দেখছি না।’ 

বরিশাল ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান পলাশ বলেন, ‘চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুৎও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে দিনে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি।’

ময়মনসিংহে ৩২৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং

ময়মনসিংহ, জামালপুর নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ জোন। এই জোনের ছয় জেলার প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১ হাজার ৭৫ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ মেগাওয়াট। এই হিসাবে দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে ৩২৫ মেগাওয়াট। যা হিসাব করলে দেখা যায়, দিনে চার-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। তার দ্বিগুণ লোডশেডিং হচ্ছে গ্রামে।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি জানিয়েছেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক।  তিনি বলেন, ‘দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের চাহিদায় যেমন পরিবর্তন আছে, তেমন লোডশেডিংয়েরও পরিবর্তন হয়। দিনের কোনও সময় বেশি হয়, আবার কোনও সময়ে কমে আসে। অর্থাৎ অফ-পিক আওয়ারে কম থাকে আর পিক-আওয়ারে বেশি লোডশেডিং হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ময়মনসিংহ পাওয়ার স্টেশন প্রতিদিন ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা থাকলেও গ্যাসসহ নানা সংকটের কারণে ৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। এ ছাড়া ইউনাইটেড জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ইউনাইটেড ময়মনসিংহ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্টেশন ৩১৫ মেগাওয়াট উৎপাদন করার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের সংকটের কারণে তারা বর্তমানে ৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে।  মূল কারণ কয়েকদিন আগে ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ পাওয়ার গ্রিড আশুগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এবং কালিয়াকৈরের বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্ট স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। সেখানেও উৎপাদন কমেছে অনেকটাই।’ 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ময়মনসিংহের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম বলেন, ‘লোডশেডিং বর্তমানে খুবই কম। তবে আবহাওয়াজনিত কারণে ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে অনেক সময় তারের ওপর গাছপালা পড়ে গেলে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে দেখা যাচ্ছে গ্রাম এলাকায় অনেক সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে। বিদ্যুতের কর্মীরা গিয়ে গাছ সরিয়ে লাইন সচল করে দেয়। এ কারণে অনেকটা সময় লেগে যায়। এর ফলে গ্রামের মানুষ মনে করেন লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।’

সদরের গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমানে বেশিরভাগ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর আসে। দিনে চার-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। অনেক সময় বৃষ্টি এবং ঝড় শুরু হলে সারাদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে। এজন্য গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা কম পায়।’

সদরের চুরখাই গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিদিন হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বোরো ধান আবাদে সেচের তেমন প্রয়োজন হচ্ছে না। তবে বৃষ্টি না থাকলে যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে তাতে করে কৃষি আবাদ করাটা কঠিন হয়ে যেতো। বৃষ্টি আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।’ 

সিলেটে দিনে-রাতে সমানতালে লোডশেডিং

সিলেটে দিনে-রাতে সমানতালে লোডশেডিং হচ্ছে। এ কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও রয়েছে বেকায়দায়। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে তাদের পরীক্ষা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেটে প্রতিদিন চাহিদার বিপরীতে ২০-২৫ শতাংশ লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবে আরও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা।

নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরীজীবী পান্না রায় বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় শিশুদের নিয়ে দুর্বিষহ সময় পার করছি। বুধবার রাত ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আমার বাসায় বিদ্যুৎ ছিল না। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে এক ঘণ্টা ছিল না। সকাল ১০টায় অফিসে আসার পর কয়েক দফা আসা-যাওয়া করেছে। পরিস্থিতি এমন যে, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিচ্ছে, আবার এক ঘণ্টা নিচ্ছে। দিনে অন্তত নয়-দশ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকতেছে।  দেশের সব জেলায় একই অবস্থা চলছে।’

নগরীর কুশিঘাটের বাসিন্দা কবি নামব্রম শংকর বলেন, ‘নয়াসড়ক এলাকার একটি অফিসে বুধবার দুই ঘণ্টা বসা ছিলাম। এ সময়ে তিন দফা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। দিনে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।’

লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরাও। মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল রহমান রিপন বলেন, ‘এমনিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। সকাল খুলতে খুলতে ১১টা বেজে যায়। এর মধ্যে সারাদিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না আমাদের।’

বিউবো সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সিলেট অঞ্চলে পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ১৩০ মেগাওয়াট।  ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশ। সিলেট জেলায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ৮৩ মেগাওয়াট। জেলায় ঘাটতি ছিল ৮ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। 

বিউবোর সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় সিলেটে প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কেবল সিলেটে নয়, সারা দেশেই এই সমস্যা হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। এ অবস্থায় বেড়েছে জেনারেটরের চাহিদা। শহরাঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গ্রাম অঞ্চলে সারাদিনে গড়ে ছয়-সাত ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ।

রংপুরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং 

রংপুরে এক ঘণ্টা পর পর আবার কখনও দুই ঘণ্টা পরই লোডশেডিং হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের। এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কথা থাকলে দুই ঘণ্টার বেশি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জেলার বাইরে কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে শপিংমল আর দোকানপাটে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে উপজেলা পর্যায়ে অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে সন্ধ্যার পর থেকে আবার এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। হিসাবে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হয় গ্রাম অঞ্চলে।

নগরীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ দিন ধরে নগরীতে অব্যাহতভাবে চলছে লোডশেডিং।  গতকাল ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীর ভিআইপি এলাকা বাদে পুরো নগরীতে এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। 

জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সালাম, সোলায়মান আলী জানান, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং চলছে। এভাবে হলে দোকানদারি করা যায় না। আইপিএস চার্জ দেওয়ার সময় পাওয়া যায় না। আট-নয় ঘণ্টা চলছে এভাবে। একই কথা জানালেন জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী শাহাজাহান আলী।

অপরদিকে, অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষায় প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

রংপুর নেসকোর প্রকৌশলী শামসুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমাদের কিছুই করার নেই।’

রংপুরের আট উপজেলায় লোডশেডিং আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলাগুলো পল্লী বিদ্যুতের আওতায় হওয়ায় সেখানে অন্তত ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। 

বদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘আমার আওতাধীন এলাকায় চাহিদা হচ্ছে ২০ মেগাওয়াট। বরাদ্দ মিলছে আট মেগাওয়াট। ফলে কোনোভাবেই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে আমাদের।’

খুলনাতেও ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং

খুলনার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে ১০ ঘণ্টার বেশি।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) দেওয়া তথ্যমতে, ১৬ এপ্রিল বেলা ১টায় পিক-আওয়ারে ২০২ মেগাওয়াটের লোডশেডিং ছিল। খুলনা শহরে লোডশেডিং ছিল ১১৫ মেগাওয়াট।

ওজোপাডিকোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, ১৬ এপ্রিল বেলা ১টায় পিক-আওয়ারে ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭৬২ মেগাওয়াট। সরবরাহ রয়েছে ৫৬০ মেগাওয়াট। ২০২ মেগাওয়াটের লোডশেডিং রয়েছে। খুলনা সিটিতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ মেগাওয়াট। সরবরাহ রয়েছে ১৩১ মেগাওয়াট। ২৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং রয়েছে। পাশাপাশি খুলনা জোনে পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৫৭৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৪৫৮ মেগাওয়াট। ১১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রয়েছে।  এ ছাড়া বরিশাল জোনে পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮৯ মেগাওয়াট। সরবরাহ রয়েছে ১০২ মেগাওয়াট। ৮৭ মেগাওয়াটের লোডশেডিং রয়েছে। তবে বাস্তবে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং থাকছে বেশিরভাগ এলাকায়।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ১৬ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ১২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এখানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়েও উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে খুলনা নগরীর বাসিন্দারা বলছেন, এলাকা ভেদে ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। যা ৬০ মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত বহাল থাকে। 

নগরীর গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ গেলে আর আসার নাম থাকে না। দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। আবার বিদ্যুৎ আসলে ৩০ মিনিট পরই চলে যায়। হিসাবে দিনে ১০-১১ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে থাকতে হয়। এতে ভোগান্তি বেড়ে গেছে আমাদের।’

নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ১৬ এপ্রিল দুপুরে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। ভোরে স্বল্প সময়ের জন্য লোডশেডিং হয়েছিল। একই অবস্থা ছিল বিকাল এবং সন্ধ্যায়ও।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আজ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু
সংরক্ষিত নারী আসন আজ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু
বহু বছর পর আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছি : স্পিকার
বহু বছর পর আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছি : স্পিকার
নতুন দুই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, একটিতে সরকারি ছুটি
নতুন দুই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, একটিতে সরকারি ছুটি