৬শ কোটি লুট : এখনো মধুমতি থেকে টাকা তোলার চেষ্টায় তাপস

মধুমতি একটি অনুমোদিত ব্যাংক। তবে ঢাকা দক্সিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস কাগুজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করতেন। কয়েক হাজার কোটি টাকা লুট করতেই খুলেছিলেন এই ব্যাংক। ছক কষে অর্থ লুট, পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তার যেসব ক্রেডিট কার্ড বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে থাকা টাকা জব্দ রয়েছে, সম্প্রতি তিনি কয়েকটি ক্রেডিটকার্ড ব্যবহার করে একাধিকবার মধুমতি ব্যাংক থেকে জব্দ টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর করতে চেষ্টা চালান।
এক লিখিত আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আদালতকে জানান- ‘তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা এসব ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের প্রচেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির আগে এসব ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করলে তদন্ত কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। এজন্য কার্ডগুলোর ডেবিট (অর্থ উত্তোলন, ঋণ ও কেনাকাটা) কার্যক্রম ব্লক (বন্ধ) করা একান্ত প্রয়োজন।
পরে সোমবার (২০ এপ্রিল) আদালত ক্রেডিট কার্ডগুলো ব্লকের আদেশ দেন। গত বছরের ৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শেখ ফজলে নূর তাপস ও তার স্ত্রী আফরিন তাপসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। তাপস সপরিবারে বিদেশে। ২০২৪ সালে দেশ ছাড়েন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, তাপসের স্বীকৃত ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে দৃশ্যমান অস্বাভাবিক লেনদেন ৬শ’ কোটি টাকার বেশি। শনাক্ত হয়েছে কয়েকশ’ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, নগদ টাকা। তবে গোপনে কয়েক হাজার কোটি টাকা জুলাই অভ্যুত্থানের আগেই কয়েকটি দেশে পাচার করেছেন তিনি।
দুদকের এ মামলাটি ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে বিচারাধীন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান আদালতে জমা দেওয়া কাগজপত্রে উল্লেখ করেছেন, ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা ও ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়। তাপসের স্ত্রী আফরিন তাপসও ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নয়টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৯ টাকা ও ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৩ ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেন হয়।







