জিয়াউর রহমানের আদর্শে দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: আবদুস সালাম

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও নীতিকে অনুসরণ করেই দেশের বর্তমান নেতৃত্ব এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কর্ম, চিন্তা ও দেশপ্রেম আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করছে এবং তাঁর দেখানো পথ ধরেই বর্তমান নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করছে।
শনিবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দলের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও বিএনপি সরকারের জনবান্ধব বাজেট বাস্তবায়ন শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন কর্মবীর মানুষ। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, রণাঙ্গনে হাতে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন। আবার যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রয়োজনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, আজও জিয়াউর রহমান তাঁর কর্ম, চিন্তা ও আদর্শের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন। বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণে তিনি এখনো অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণার উৎস।
আবদুস সালাম বলেন, তিনি এমন এক সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল অবস্থায় ছিল এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল। তবে তিনি কখনো হতাশ হননি; বরং জনগণকে আশার বাণী শুনিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিরোধী দল শুরু থেকেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, দুর্নীতি, চুরি ও অনিয়ম বন্ধ করা গেলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে এবং দেশকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা গেলে রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন হবে না। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বাজেট প্রণয়ন করেছেন।
বাজেট নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বাজেটের বিষয়বস্তু না দেখেই বিরোধীরা সমালোচনা শুরু করেছে। বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সময় দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন মহল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বিরোধীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, কারণ তারা মনে করছে এভাবে পাঁচ বছর কাজ করলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বিরাজ করেছিল। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ সরকার গঠনের পরপরই এর পতনের দাবি তোলা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড চালু করেছে এবং কৃষকদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করেছে। সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আগের সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। একসময়ের ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, কর্মহীন ও অবহেলিত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সফল হয়েছে।
সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে-এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, জনগণই এর জবাব দেবে। নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে তাদের আস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে সবসময় বিএনপি জনগণের পাশে থেকেছে। জনগণের ভোটেই তারেক রহমান নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, যারা দেশের অগ্রগতি চায় না, তারাই অতীতে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হয়েছে। বর্তমানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও নানা ষড়যন্ত্র চলছে, তবে বিএনপি অতীতের মতো তা মোকাবিলা করবে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। জনগণ ভবিষ্যতেও তাকে সমর্থন দেবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই এমপি বা মন্ত্রী হতে পারবেন না। তাই ধৈর্য ও ঐক্য ধরে রাখতে হবে। রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দেশ ও জনগণের জন্য করতে হবে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নিজের বা পরিবারের জন্য রাজনীতি করেননি। মানুষের জন্য কাজ করেছেন বলেই জনগণ তাঁর পরিবারকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে দলীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
ভিওডি বাংলা/জা







