• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

হাম-রুবেলা টিকা

দুই ডোজ টিকায় ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা: ইউনিসেফ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৮ এ.এম.
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সুরক্ষায় হাম-রুবেলা টিকার গুরুত্ব আবারও সামনে আনল ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সময়মতো টিকা না পেলে অজান্তেই ঝুঁকি বাড়ে, আর তখন পর্যন্ত রোগ অনেক দূর ছড়িয়ে যেতে পারে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাম-রুবেলার এক ডোজ টিকা প্রায় ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয়, আর দুই ডোজ সম্পন্ন হলে এই সুরক্ষা প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছে যায়।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই টিকাদান কর্মসূচি আমাদের এ ধরনের পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।’

সরকার ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগে টিকা নেওয়া থাকলেও এই বয়সসীমার প্রতিটি শিশুকেই আবার টিকা নিতে বলা হয়েছে, কারণ এই বয়সী শিশুরাই সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি।

রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, ‘ইউনিসেফ, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে; পরিকল্পনা প্রণয়ন, কমিউনিটিকে সংগঠিত ও মোবিলাইজ করা, টিকা সরবরাহ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৃহৎ পরিসরে এই জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচি পরিচালনা সম্ভব করার ক্ষেত্রে গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি এই টিকাদান প্রচেষ্টা জোরদার ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অংশীজনদের সঙ্গে এবং দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি, যেন দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাসহ সব জায়গায় টিকা পৌঁছে যায়।’ বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ‘৫ এপ্রিল জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা ভালো অগ্রগতি দেখছি। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ শিশু—লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ—ইতিমধ্যে টিকা পেয়েছে।’

সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকারের প্রশংসাও করেন ইউনিসেফ প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীনে প্রাথমিকভাবে দ্রুত জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং অল্প সময়ের মধ্যে এখন দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে টিকাদান শুরু করার মধ্য দিয়ে সরকার সংকট মোকাবিলার যে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে, সে জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করছি। জীবন রক্ষা করতে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব।’

রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানো, কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং কোনো শিশু যেন টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ নয়। ‘বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণ, টিকা না পাওয়া প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে শিশুদের শক্তিশালী সুরক্ষা পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে। টিকা জীবন বাঁচায়। টিকা যে সুরক্ষা দেয়, তার প্রমাণ আমরা প্রতিদিন পাই এবং শিশুরা টিকা না পেলে তার জন্য যে মূল্য দিতে হয়, সেটাও আমরা দেখতে পাই।’

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
৬শ কোটি লুট : এখনো মধুমতি থেকে টাকা তোলার চেষ্টায় তাপস
৬শ কোটি লুট : এখনো মধুমতি থেকে টাকা তোলার চেষ্টায় তাপস
জ্বালানি পরিস্থিতি এ মুহূর্তে দেশের ‘সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু’
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জ্বালানি পরিস্থিতি এ মুহূর্তে দেশের ‘সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু’
১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে : নুরুল হক
১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে : নুরুল হক