• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সংরক্ষিত নারী এমপিরা বেতন ছাড়াও যেসব সুবিধা পান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ এ.এম.
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ: ছবি-ভিওডি বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ হয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন একটি আসন।

এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে-সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা কি সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতো একই সুযোগ-সুবিধা পান?

নির্বাচন কমিশন সূত্রের ভাষ্য, এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। সংরক্ষিত ও সরাসরি নির্বাচিত-দুই ধরনের সংসদ সদস্যই সমান মর্যাদা ও সুবিধা ভোগ করেন। অর্থাৎ সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের অধিকার ও প্রাপ্য একেবারেই অভিন্ন।

সংরক্ষিত নারী এমপিরাও অন্যান্য সংসদ সদস্যদের মতো মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকা বাবদ প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আপ্যায়ন খাতে আরও পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

পরিবহন খাতে তারা মাসে ৭০ হাজার টাকা পান, যার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনি এলাকার অফিস পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে মাসে ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যও কিছু নির্ধারিত ভাতা রয়েছে। এর মধ্যে লন্ড্রি বাবদ এক হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খাতে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যায়।

সংসদ সদস্যদের জন্য রাজধানীতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আবাসনের সুবিধা রাখা হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকায় বা নির্ধারিত স্থানে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা তাদের দায়িত্ব পালন সহজ করে।

এছাড়া টেলিযোগাযোগ সুবিধার আওতায় বাসায় সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এ খাতে মাসিক সাত হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় বহন করা হয়।

সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। নির্ধারিত শর্তে একজন এমপি তার মেয়াদকালে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়াই আমদানি করতে পারেন।

পাঁচ বছর পর একই সুবিধায় আবার গাড়ি আনার সুযোগ রয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা এ সুবিধা গ্রহণ না করার কথা জানিয়েছেন।

সংসদ অধিবেশন, কমিটির সভা কিংবা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য ভ্রমণ ভাতা দেওয়া হয়। রেল, নৌ বা বিমানপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা প্রযোজ্য।

সড়কপথে যাতায়াতের জন্য কিলোমিটারভিত্তিক ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়।

দায়িত্ব পালনের সময় অবস্থানকালীন প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। অন্যদিকে সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকলে প্রতিদিন ৮০০ টাকা ভাতা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত খরচ পাওয়া যায়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বিমা কার্যকর হয়।

প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পান, যা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয় করতে হয়।

এর বাইরে অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্যদের ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্লট বরাদ্দ দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

সংসদ সদস্যদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-তাদের প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত। ফলে এসব সুবিধার ওপর কোনো কর প্রযোজ্য হয় না।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কাউট সদস্যদের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্কাউট সদস্যদের সাক্ষাৎ
নির্ধারিত দামে ধান ও চাল কিনবে সরকার
নির্ধারিত দামে ধান ও চাল কিনবে সরকার
বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বাড়ালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বাড়ালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি