ফিটনেস বিহীন বাসে চলছে যাত্রীসেবা, জনদূর্ভোগ চরমে

রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলার অভাব, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা ও যানজটে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরা পর্যন্ত একটি বাসযাত্রায় এমন নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রাবাড়ী থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাস উত্তরা অভিমুখে রওনা দেয়। শুরুতেই গোলাপবাগ এলাকায় সিগন্যালে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে বাসটি। এরপর পুরো পথজুড়ে থেমে থেমে চলা, যাত্রী তোলা এবং অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা।
উক্ত রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, রাইদা, অনাবিল, ভিক্টর ও আকাশ পরিবহনের বাসগুলোর যাত্রী তোলা ও আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা সবসময়ই মেতে থাকে। তারা একে অপরকে ওভারটেক করতে গিয়ে ঝূঁকিপূর্ণভাবে বাস চালায়। এতে নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অনেক সময় দেখা যায় আরেকজন সামনে গিয়ে কোমর বাঁকিয়ে রাখে, যাতে পেছনের বাস আগে না যেতে পারে। এতে রাস্তায় কোনো কারণ ছাড়ায় তৈরি হয় যানজট। একই সাথে উচ্চ শব্দের হর্ন, হঠাৎ ব্রেক এবং বিপজ্জনক ওভারটেকিং রোজকার ঘটনা।
বাসগুলো যখন যাত্রী তোলা আর কে কার আগে যাবে সেই প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত, তখন ভেতরে বসা যাত্রীদের কেউ কেউ অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছেন। আবার কেউ করছেন ভাড়া নিয়ে বিতর্ক। সরকার যতই ভাড়া নির্ধারণ করে দিক বাস কন্ডাক্টর ভাড়া নিয়ে ঝামেলা করবেই।
কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তেলের দাম বাড়ায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে। এক যাত্রী জানান, কমলাপুর থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে। অন্য একজন বলেন, স্বল্প দূরত্বেও আগের তুলনায় কয়েক টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।
বাসটির ফিটনেস নিয়ে কথা না বললেই নয়। তুরাগ পরিবহনের ওই বাসটির অধিকাংশ গ্লাসই ছিলো ভাঙ্গা। আর বাসে সিটগুলোতে কয়েক স্তরের পুরু ময়লা জমেছে। আর যদি আপনার উচ্চতা একটু বেশি হয় তাহলে সিটগুলোতে কোনো ভাবেই আপনি বসতে পারবে না। সামনের সিটের সাথে যে গ্যাপ রাখা হয়, তা কোনো ভাবেই বসার উপযুক্ত হয় না। বাসে মধ্যে যে ফ্যানগুলো আছে তা শুধুই লোক দেখানোর জন্য। যদিও দুই একটা চলে সেটা থেকে বাতাসের পরিবর্তে বের হয় বিকট শব্দ।
রাজধানীর এই গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাস মালিকপক্ষের আন্তরিকতা ও সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হোসেন বলেন, 'আমরা প্রতিদিন এসব কথা বলি। সমাধানটা হচ্ছে না। সরকারের এ সংক্রান্ত যে কমিটিগুলো, সবগুলো মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের দখলে। এখানে এই প্রস্তাবগুলো যে তুলবে এরকম কোনো প্রতিনিধি নেই। মালিকরা যাত্রীদের এসব ভোগান্তি কোনোদিন তুলবে না। তারা মনে করে, তাদের বাস শতভাগ ভালো, সব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই ফোরামগুলোতে মালিক আছে এবং শ্রমিক ফেডারেশন আছে। সরকারের যারা আছে তারা কিন্তু এসব বাসে চড়ে না। সরকারি গাড়িতে চড়ে কিংবা প্রাইভেট গাড়িতে যারা চড়ে তাদের কানে এটা পৌঁছায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত ভুক্তভোগীরা নীতিনির্ধারণী জায়গায় না যাবে, ততদিন সমাধান হবে না।'
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব আরও বলেন, 'সমস্যার সমাধান তারা করে না। কারণ এগুলো করতে গেলে মালিকদের একটা বড় ধরনের বিনিয়োগ করা লাগবে। মালিকরা বিনিয়োগ না করার জন্য এই কমিটিগুলো দখল করে রাখে। এখানে কমিটিতে তারা দেখায় যে, তার গাড়ি চকচকা চলছে। গাড়িতে কোনো রকম সমস্যা নেই। তাদের বক্তব্য, গাড়ির কোনো সংকট নেই। শুধু লস আর লস যাচ্ছে। শুধু ভাড়াটা বাড়িয়ে দেন।'
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এসআর







