• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইরান-মার্কিন উত্তেজনা:

অস্ত্র ঘাটতি : চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে গোলাবারুদের বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে-কোন খাতে সামরিক সক্ষমতা অগ্রাধিকার পাবে এবং কোথায় মজুদ পুনর্গঠন করা হবে। 

মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সামরিক অভিযানগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ক্ষয় হওয়া অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে ছয় বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। দীর্ঘ এই সময়সীমা দেশটির সামরিক প্রস্তুতি ও বৈশ্বিক কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় দেশটি ১ হাজারেরও বেশি দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি থাড ও প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ১,৫০০ থেকে ২,০০০টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চ-প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহারের হার এতটাই বেশি যে তা নিয়মিত উৎপাদনের তুলনায় অনেক দ্রুত মজুদ শেষ করে দিচ্ছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল এবং সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক এফ. ক্যানসিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থল-আক্রমণ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতি আগে থেকেই ছিল। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি এশিয়া অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলেও চাপ সৃষ্টি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি সাময়িক সরবরাহ সংকট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ও মজুদ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র উৎপাদন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি হলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতে জড়ানোর আগে অস্ত্র মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, ইরান-মার্কিন উত্তেজনা শুধু কূটনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডার ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যুদ্ধবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী
যুদ্ধবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী
ইরানে পারমাণবিক হামলা করবেন কি না, জানালেন ট্রাম্প
ইরানে পারমাণবিক হামলা করবেন কি না, জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন নজর এড়িয়ে হরমুজ পাড়ি দিল ইরানি জাহাজ
মার্কিন নজর এড়িয়ে হরমুজ পাড়ি দিল ইরানি জাহাজ