• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

এমএসএফের প্রতিবেদন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা কাজে আসেনি, এপ্রিলেই নিহত ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩১ পি.এম.
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মব কালচার’ বন্ধের ঘোষণা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি—বরং এপ্রিল মাসে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংস্থাটির এপ্রিল মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও নিজস্ব অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিতভাবেই দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এমএসএফ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে গণপিটুনির ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন, যেখানে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১৯। একইভাবে, মব সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা মার্চের ৩৬ থেকে বেড়ে এপ্রিল মাসে দাঁড়িয়েছে ৪৯-এ। আহতের সংখ্যাও বেড়েছে—এপ্রিলে ৪৯ জন, যা আগের মাসে ছিল ৩১।

এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করাই হলো মব। রাষ্ট্র এবং মব একসঙ্গে চলতে পারে না। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মবকে ফুলস্টপ বলেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে মব তো থামেইনি বরং বেড়েছে। এটা সরকারের সদিচ্ছার অভাব না অযোগ্যতা, সেই প্রশ্ন উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মব হলো বিচারবহির্ভূত প্রবণতা। এ প্রবণতা এখন বাড়ছে। এ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একটি শিশু, দুজন কিশোর, ১২ জন নারী ও ৪১ জন পুরুষে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অল্পসংখ্যক ঘটনা ছাড়া সব কটি মরদেহের পরিচয় অজ্ঞাত থেকে যাচ্ছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয় মোট ৫৩টি। এর অধিকাংশই পাওয়া গেছে নদী ও ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায়, মহাসড়ক ও সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনসংলগ্ন এলাকা, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন পরিত্যক্ত স্থানে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও এপ্রিল মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মাসে এমন ৩১২টি ঘটনা ঘটেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ২৩টি বেশি। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৪টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৪টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা একটি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছয়জন ছিলেন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী।

ধর্ষণের শিকার ৫৪ জনের মধ্যে ১৮ জন শিশু এবং ১৪ জন কিশোরী। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন একটি শিশু, চারজন কিশোরী ও ৯ জন নারী। পাশাপাশি ধর্ষণচেষ্টা ২৩টি, যৌন হয়রানি ১৭টি এবং শারীরিক নির্যাতনের ৬৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছেন একজন নারী।

এপ্রিলে আত্মহত্যা করেছেন পাঁচজন কিশোরী ও ২১ জন নারী। অপহরণের শিকার হয়েছেন দুই শিশু ও দুজন কিশোরী, অন্যদিকে একজন কিশোরীসহ ৯ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন। একই মাসে দুই কিশোরী ও পাঁচ নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৮৯ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যার শিকার হয়েছেন, যা আগের মাসের তুলনায় ১৬টি বেশি। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু ও ১২ জন কিশোরী রয়েছে।

এমএসএফ জানায়, এপ্রিল মাসে শিশু ধর্ষণের চেষ্টার একটি এবং নারী ধর্ষণের চেষ্টার একটি ঘটনা স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে আপস করা হয়েছে, যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে শপথ নেওয়ার পর ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এমএসএফের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে এ ধরনের ঘটনা আরও বেড়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
শেয়ার বাজারে ১৫ বছরে লুট হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা : রুমিন ফারহানা
শেয়ার বাজারে ১৫ বছরে লুট হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা : রুমিন ফারহানা
গাড়ি থেকে নেমে কোলে নেওয়া শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
গাড়ি থেকে নেমে কোলে নেওয়া শিশুকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার