• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অনলাইন জুয়া

দিনে অবৈধ আয় ২ কোটি, ক্রিপ্টো-হুন্ডিতে বিদেশে পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৪৬ পি.এম.
ছবি : ভিওডি বাংলা

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মূলহোতাসহ ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটি অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করতো। পরে সেই অর্থ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। গত ছয় মাস ধরে তারা এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, মো. আশরাফুল ইসলাম , মো. জসীম উদ্দীন , তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান।

অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছিল। এসব সাইটে বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হতো। পরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে চক্রটি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত এবং এর বড় অংশ বিদেশে পাচার করতো।

সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের নিয়মিত মনিটরিংয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এই চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। পরে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের পর গত ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর পলাশ ও ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চার সদস্যকে আটক করা হয়।

অভিযানে মোট ১৩টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, বিকাশ এজেন্ট সিম, কুরিয়ার রশিদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে। সিআইডি বলছে, এসব আলামতের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া এজেন্ট সিম সরবরাহ করা হতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানায় সিআইডি।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। একইসঙ্গে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও ব্যবহৃত ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এম আই/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নূর আলীর অর্থপাচারের হাতিয়ার বোরাক রিয়েল এস্টেট
নূর আলীর অর্থপাচারের হাতিয়ার বোরাক রিয়েল এস্টেট
অস্ত্রধারী চক্রের নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি, তালিকায় ১৪৮ সন্ত্রাসী
অস্ত্রধারী চক্রের নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি, তালিকায় ১৪৮ সন্ত্রাসী
সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: অ্যাপ ডেভেলপার গ্রেপ্তার
সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: অ্যাপ ডেভেলপার গ্রেপ্তার