সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: অ্যাপ ডেভেলপার গ্রেপ্তার

দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ ও অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগে মো. আরমান হোসেন (২২) নামে এক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী।
বুধবার (৬ মে) সিআইডির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আরমান হোসেনের বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার উত্তর রহিমপুর এলাকায়। গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড—যার মধ্যে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট সিম—এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
সিআইডি জানায়, গত বছরের ৯ অক্টোবর সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন পর্যবেক্ষণে ‘Siam Howlader’ নামের একটি ফেসবুক আইডি শনাক্ত করা হয়। ওই আইডি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পূর্ণাঙ্গ তথ্য, এসএমএস তালিকা, বিকাশ, রকেট ও নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকা থেকে মো. সিয়াম হাওলাদার (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। তার স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ (Sob Akhane) নামের একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম ‘সব এখানে’ নামের অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১৭/২১/২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরে সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন মো. আল আমিনকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, পুরো সিস্টেম ও অ্যাপটি তৈরি করেছেন একজন দক্ষ প্রোগ্রামার।
এরই সূত্র ধরে তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরমান হোসেনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি sobakhane.xyz, sobakhane.online ও sobakhane.info নামে ওয়েবসাইট এবং ‘সব এখানে’ নামের অ্যাপ তৈরির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, এসএমএস তালিকা, এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যসহ বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো। এসব তথ্য জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তার আসামির হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ থেকেও চক্রের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার আরমান হোসেনকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পূর্ণ রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
ভিওডি বাংলা/এম আই/আ







