যুদ্ধবিরতি আলোচনায় দারুণ অগ্রগতি হয়েছে: পাকিস্তান

প্রায় তিন মাস ধরে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। শনিবার দেশটির একাধিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরান এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সফর শেষে জেনারেল অসীম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে অগ্রগতির ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে ভারত সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে আলোচনা কিছুটা এগিয়েছে এবং এ বিষয়ে আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ঘোষণা দিতে পারে।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি তখনও কিছু কাজ চলছে। আজ পরে, আগামীকাল কিংবা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের হয়তো এই বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ আসতে পারে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কিছুটা কমেছে, তবে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। তার মতে, আগামী তিন–চার দিনের পরিস্থিতি পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কূটনৈতিক চাপ ও সমঝোতার চেষ্টা
সপ্তাহব্যাপী সংঘাতের পর বর্তমানে কার্যত যুদ্ধবিরতি থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
সূত্র অনুযায়ী, আলোচনা মূলত ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা খসড়া কাঠামোকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
মুখপাত্র বাঘাই আরও জানান, ইরানের কাছে নৌপথে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তেহরানের প্রধান দাবি হলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার আশঙ্কা দূর করা এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো। সেখানে ইরানের সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারও জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান অনুযায়ী ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। একইসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান এবং ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি জানান।
ইরানের শীর্ষ আলোচক গালিবাফ বলেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্র ও কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা না রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তেহরান বারবার ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করে আসছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও সংঘাতে জড়ালে তার পরিণতি আগের চেয়েও বেশি ভয়াবহ হবে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি জানান, ইরান পরিস্থিতির কারণে চলতি সপ্তাহে ছেলের বিয়েতে অংশ নিতে পারবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ও সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/এমএস







