• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
মিনা-মুজদালিফায় বাড়ছে তাপমাত্রা, হজযাত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিশেষ পিপি নিয়োগ পুরনো ঘুণে ধরা বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ঈদযাত্রার প্রথম দিনে সড়কে ১৬ প্রাণহানি চার মাসে ধর্ষণসহ শিশু নির্যাতনের ৭৩ ঘটনায় মামলা হয়নি হামের রোগী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার-নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল পাকিস্তান কি পারবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে? চাঁন-তারা জামে মসজিদের জানাজার ঘর উদ্বোধন করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক ২৫ মে থেকে পরবর্তী এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’: প্রধানমন্ত্রী টাকা দিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর গলায় ফাঁস

পাকিস্তান কি পারবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৩ মে ২০২৬, ০৯:০০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ ভূরাজনীতিতে এবার নতুন এক কূটনৈতিক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত প্রশমনে ইসলামাবাদ এখন দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রশ্ন উঠেছ পাকিস্তান কি সত্যিই এই সংকট নিরসনে কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, নাকি শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি সীমাবদ্ধ থাকবে কূটনৈতিক যোগাযোগেই?

সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক দশক ধরে চলা ওয়াশিংটন-তেহরান বৈরিতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান এখন এক ধরনের নির্ভরযোগ্য ‘বার্তাবাহক’ হিসেবে ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ ইসলামাবাদের এই তৎপরতার সাফল্য নিয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কিছুটা কার্যকর হলেও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার মতো অবস্থানে নেই। কারণ, পাকিস্তানের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান যেমন তাকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে, তেমনি সেই বাস্তবতাই দেশটির কূটনৈতিক সক্ষমতাকে সীমিত করছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, পাকিস্তানের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত এবং তেহরানের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক ইসলামাবাদকে আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সহায়তার কারণে রিয়াদের সঙ্গেও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্কও কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইতোমধ্যে পাকিস্তানের এই উদ্যোগের কিছু ফলও দৃশ্যমান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযান গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে গড়ানোর পেছনে ইসলামাবাদের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। মার্চে ওয়াশিংটনের ১৫ দফা প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এপ্রিল মাসে ‘ইসলামাবাদ টকস’ আয়োজনেও সক্রিয় ছিল পাকিস্তান।

চলতি সপ্তাহেও ইরানের পাল্টা প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে দেশটি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান আলোচনা এখন চুক্তি ও নতুন হামলার মধ্যকার শেষ সীমায় অবস্থান করছে।

তবে অতীত অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোনো মধ্যস্থতাকারীর দক্ষতার চেয়ে বড় বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা। ক্যাম্প ডেভিড কিংবা অসলো চুক্তি সফল হয়েছিল মূলত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যুদ্ধ থামানোর আন্তরিক সিদ্ধান্তের কারণে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে অনেকেই ইরানের জন্য ‘কৌশলগত আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছেন। কারণ প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমে কঠোর সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় ইরানের মতো একটি রাষ্ট্র সহজে এমন শর্ত মেনে নেবে না।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর কাছে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টি পুনরায় সচল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদও যুদ্ধপূর্ব অবস্থানের প্রায় ৭০ শতাংশে ফিরিয়ে এনেছে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো আত্মসমর্পণের চিন্তা বাদ দিয়ে ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে বলেও বিশ্লেষণে বলা হয়।

এদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এই কূটনৈতিক উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আফগান সীমান্তে নিরাপত্তা সংকট, হরমুজ প্রণালী ঘিরে জ্বালানি চাপ এবং দেশের ভেতরে মার্কিনপন্থী অবস্থানের বিরূপ জনমত ইসলামাবাদের কৌশলগত অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই জটিল পর্বে পাকিস্তান হয়তো দক্ষ বার্তাবাহকের ভূমিকা পালন করছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি বদলে দিয়ে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষমতা ইসলামাবাদের হাতে সীমিতই রয়ে গেছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ৮২
চীনে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ৮২
ছেলের বিয়েতে থাকবেন না ট্রাম্প
ছেলের বিয়েতে থাকবেন না ট্রাম্প
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক