গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক চমক, যুবদলে গুরুত্বপূর্ণ পদে তরুণ নেতা বাপ্পি

গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রচলিত ধারণা—এ জেলা আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। সেই জেলারই এক তরুণ রাজনৈতিক কর্মী জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যুবদলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান বাপ্পি। আর এই নিয়োগকে ঘিরেই গোপালগঞ্জে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোড়ন।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, এটি শুধু একজন নেতার পদোন্নতি নয়; বরং জাতীয় রাজনীতিতে গোপালগঞ্জের বিএনপি-সমর্থক তরুণদের জন্য নতুন আশার বার্তা। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শ্রম, ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক সক্রিয়তার স্বীকৃতি হিসেবেই বাপ্পির এই পদপ্রাপ্তিকে দেখছেন স্থানীয়রা।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী-মুকসুদপুর অঞ্চলে বৃহস্পতিবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যায়। ফেসবুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বাপ্পির ছবি, পুরোনো রাজনৈতিক স্মৃতি এবং শুভেচ্ছাবার্তা। বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিলও করেছেন নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
নিজড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসাদুজ্জামান সরদার আসাদ বলেন, এটা গোপালগঞ্জের জন্য গর্বের বিষয়। আমাদের মাটির সন্তান জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান গোপালগঞ্জের উন্নয়নে কাজে লাগবে—মানুষ সেই প্রত্যাশাই করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জের মতো প্রতীকী জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মূল্যায়ন রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সাংগঠনিক বিস্তারের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাপ্পির পদপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারাও। নাহিয়ান বিন অনিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন। আরও ভালো লাগার বিষয়, সম্পাদকমণ্ডলীর অনেকেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। ছাত্রদলের উত্তপ্ত রাজপথে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা সত্যিই আনন্দের।
অন্যদিকে প্রবীর বিশ্বাস লিখেছেন, সাবেক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোদ্ধা মাহমুদুল হাসান বাপ্পিকে কেন্দ্রীয় যুবদলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
অহিদুল ইসলাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বাপ্পির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা স্মরণ করে লিখেছেন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও যুবদলের সাবেক সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পির এই অর্জন গোপালগঞ্জবাসীর জন্য গর্বের। তিনি যেন দেশ, দল ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারেন, সেই কামনা করি।
স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, বাপ্পির উত্থানকে অনেকেই ‘ধৈর্য ও ত্যাগের রাজনীতির পুরস্কার’ হিসেবে দেখছেন। ছাত্রদল থেকে যুবদল—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীতে জায়গা পাওয়ায় তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার বিষয় একটাই—আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলা থেকে উঠে আসা এই যুবনেতা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব রাখতে পারেন। তবে আপাতত পদপ্রাপ্তির আনন্দেই ভাসছেন তাঁর সমর্থকরা। তাঁদের বিশ্বাস, বাপ্পির এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে গোপালগঞ্জের বিএনপিপন্থী রাজনীতির নতুন পরিচয়েরও সূচনা।
ভিওডি বাংলা/এমএস







