• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীবিদ্বেষ রোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৭ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষমূলক প্রচার এবং সহিংসতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। অংশগ্রহণকারীরা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোববার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা এবং পরিবেশ সম্পাদক পারভীন ইসলাম।

সভায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা মেহজাদ গালিব, শবনম ফেরদৌসী, ঝুমুর আসমা জুইঁ, ফাহাদুল হক, শাহীনূর আখতার, চৈতালী সমাদ্দার, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও প্রশিক্ষক ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কনটেন্ট রাইটার ফারজানা আফরোজ, আইটি কো-অর্ডিনেটর দোলন কৃষ্ণ শীল এবং সদস্য প্রজ্ঞা লাবণী সাদিয়াসহ অন্যরা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও চলচ্চিত্রে নারীর বাস্তব জীবনসংগ্রাম ও বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে না। তারা উল্লেখ করেন, ৭০ ও ৮০-এর দশকে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য পরিবেশ অনুকূল ছিল না, আর এখনো সেই প্রতিবন্ধকতা পুরোপুরি দূর হয়নি। নারীদের চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি বলেও তারা মত দেন।

বক্তারা আরও বলেন, একসময় নারীদের সামাজিক অগ্রযাত্রা কিছুটা সহজ হলেও বর্তমানে নানা ধরনের বাধা ও সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অপমানজনক মন্তব্য এবং সাইবার সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তারা মনে করেন, নারী নির্যাতনের ঘটনা ভাইরাল না হলে অনেক ক্ষেত্রে আইনগত তৎপরতা দৃশ্যমান হয় না, যা উদ্বেগজনক।

আলোচকরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই অপব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ভোগবাদী সংস্কৃতির প্রভাব সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল সমস্যা তুলে ধরাই নয়, সংবেদনশীলতা বজায় রেখে সমাধানমুখী ও ইতিবাচক উপস্থাপনাও জরুরি। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র মুক্তির পর তা নিয়ে সমালোচনা, পর্যালোচনা এবং দর্শকের সঙ্গে নির্মাতাদের সংযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতার ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সহিংসতার শাস্তি ও আইন সম্পর্কে সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে জেলা পর্যায়ে প্রচারের সুপারিশ করা হয়। নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান বক্তারা।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, "সমাজে গত কিছুদিন ধরে হত্যা বেড়েছে, নারীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বেড়েছে। জীবনের প্রতি আমাদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্খা তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আমাদের নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে কাজের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।"

তিনি নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও সহিংসতা মোকাবিলায় নারী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাসহ সমাজের সব অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, "চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় সমাজে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছে। কিন্তু বর্তমান বাস্ততায় দেখা যাচ্ছে, নানা ক্ষেত্রে সমাজ যেন উল্টো দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"

তিনি আরও বলেন, "চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতা, অভিজ্ঞতা ও চিন্তাশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে একটি নারীবান্ধব, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে ভাবতে হবে।"

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, সমাজ, পরিবার, বিনোদন জগৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংগঠন ও চলচ্চিত্রকারদের সমন্বিত উদ্যোগে ইতিবাচক মূল্যবোধভিত্তিক পুনঃশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশাপাশি তাদের সাফল্য, সংগ্রাম ও অবদানও বেশি করে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে যেকোনো তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক সামাজিক মনোভাব গড়ে তুলতে প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অতিথিসহ প্রায় ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অর্থ উপপরিষদ ও তথ্য-প্রযুক্তি উপপরিষদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সংসদে তোফায়েলসহ ১৬ সাবেক এমপি-মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব
সংসদে তোফায়েলসহ ১৬ সাবেক এমপি-মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব
আ. লীগের অপকর্মের বৈধতাদানকারী সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
আ. লীগের অপকর্মের বৈধতাদানকারী সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
রামিসা হত্যার রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন: প্রধানমন্ত্রী
রামিসা হত্যার রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন: প্রধানমন্ত্রী