মেধা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা টিভিতে সম্প্রচারের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রাথমিক স্তরের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা জাতীয় দরবারে বিকশিত করার লক্ষ্যে এক নতুন মহাপরিকল্পনা করেছে সরকার। নতুন ভাবনার অধীনে আগামী বছর থেকেই প্রাথমিক স্তরের মেধা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতাগুলো জাতীয় পর্যায়ের টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বিজয়ী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের পরিধি ও মূল্যমান বাড়ানো হবে। কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও বিশেষ আর্থিক অনুদান ও প্রণোদনা প্রবর্তন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও সুপ্ত প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিযোগিতার সমাপনী ও আলোচনা পর্বে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধার দিক থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। এই শিশুদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বরেণ্য শিল্পী, প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং দূরদর্শী সৃজনশীল নেতৃত্ব। সরকার তাদের ভেতরের এই বিপুল সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর। তারই অংশ হিসেবে আগামী বছর থেকে এই পুরো আয়োজনটিকে আরও বৃহৎ ও উৎসবমুখর পরিসরে দেশবাসীর সামনে হাজির করা হবে।
এ সময়য় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি এবং শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এক অভিনব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ জানান, কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যদি বিভাগীয় কিংবা জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো গৌরব বা পুরস্কার বয়ে আনে, তবে শুধু সেই শিক্ষার্থীই পুরস্কৃত হবে না; বরং তার কৃতিত্বের অংশীদার হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টির অবকাঠামো ও শিক্ষা মানোন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা উন্মোচনে এবং তাদের যথাযথ পরিচর্যা করতে আরও বেশি যত্নশীল, আন্তরিক ও উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার এই আমেজকে ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা বিশেষ করে উপজেলা, ইউনিয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
কেবল রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, স্থানীয় পর্যায়ের এসব মেধা অন্বেষণ মূলক প্রতিযোগিতায় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সমাজের বিশিষ্ট ও সুধীজনদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি, যেন তৃণমূলের প্রতিটি আয়োজন আনন্দময় সামাজিক উৎসবে পরিণত হয় এবং মানুষের কাছে এর বার্তা ব্যাপকভাবে প্রচার পায়।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআইয়ের প্রশিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/এফএ







