ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান গভর্নরের

ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু নিয়মকানুন ও টুলস আছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তাঁরা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।’
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ইসলামী ব্যাংকের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ অস্বীকার করে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাঁকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমরা কোনো বদলি বা প্রমোশনের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’
তিনি আরও জানান, ঈদের আগেরদিন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাৎক্ষণিক নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। এরপর থেকেই ব্যাংকের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ব্যাংকটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ছিল ৯৩ শতাংশের মতো, যা মার্চে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে। নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ হওয়া উচিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘ওয়ান থার্ড ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এই রকম একটা ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে সমাধান করছি।’
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টাকা না পাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়ে গভর্নর জানান, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এফএ







