• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা: সামনে আরও কঠিন আলোচনা

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং আরও জটিল ও কঠিন আলোচনার সূচনা মাত্র।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিটি তাৎক্ষণিক সংঘাত প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিনের মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

ইউসিএলএ বার্কল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো বেন র‍্যাড বলেন, চুক্তিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। এগুলো হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম।

তার ভাষায়, এসব জটিল প্রশ্ন কেবল ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান চুক্তি মূলত পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনেছে।

র‍্যাড আরও বলেন, চুক্তিতে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ—ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হুমকি—যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তার মতে, এই সংকটে বাস্তবে তিনটি পক্ষ জড়িত থাকলেও সমঝোতায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে মাত্র দুটি পক্ষ, যা ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু চুক্তিটিকে একটি “প্রবেশপত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি কেবল আরও জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার দরজা খুলে দিয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনাগুলো সফল হলেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে আটলান্টিক কাউন্সিলের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স প্লিটসাস মনে করেন, ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান বিরোধ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

তার মতে, উভয় পক্ষকে কীভাবে সংযত রাখা যাবে এবং নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঠেকানো যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, বর্তমান চুক্তি উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে বটে, তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হিজবুল্লাহর ভূমিকা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তি অর্জন করা কঠিন হবে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে অনেকেই শান্তির গন্তব্য নয়, বরং দীর্ঘ ও অনিশ্চিত কূটনৈতিক যাত্রার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।

ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সমঝোতাকে স্বাগত জানাল ইইউ, হরমুজ খুলে দেয়ার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: সমঝোতাকে স্বাগত জানাল ইইউ, হরমুজ খুলে দেয়ার আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ইতিবাচক দেখছে বেইজিং
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ইতিবাচক দেখছে বেইজিং
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ৪ দেশ
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ৪ দেশ