ডিএসসিসির পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) মো. আরিফ চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, প্রশাসনিক বিতর্ক, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং চলমান দুর্নীতি অনুসন্ধানসহ একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তাকে মূল পদে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) মো. আরিফ চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গত ১৬ জুন জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এর ফলে তিনি পরিবহন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব হারিয়ে নিজ মূল কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আরিফ চৌধুরী মূলত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের পরিবহন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে তার এই পদায়ন নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। কারণ পরিবহন বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন অনেক কর্মকর্তা।
ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই পরিবহন বিভাগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, গাড়ি পরিচালনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় সিটি করপোরেশনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার সময়ের জ্বালানি ব্যয় নিয়ে। আদালতের রায়ের পর বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন মেয়র পদ ফিরে পেলেও দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন আন্দোলন ও কর্মসূচি চলে। ওই সময় সিটি করপোরেশনের অনেক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লেও অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি খাতে বিপুল অঙ্কের বিল উত্তোলন করা হয়।
সূত্র জানায়, কার্যক্রম সীমিত থাকা সত্ত্বেও কোটি টাকার জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরিবহন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আরিফ চৌধুরীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহাকে ঘিরেও পরিবহন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে অভিযোগ ওঠে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে ঈদের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এসব অভিযোগ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়।
বর্তমান প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। সেই নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দপ্তরের পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টন পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়। পরিবহন বিভাগও সেই পর্যালোচনার আওতায় আসে।
ডিএসসিসির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় পরিবহন পুল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এ বিভাগের সুষ্ঠু ও মানসম্মত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী পদায়ন প্রয়োজন। সে কারণে প্রশাসনিক স্বার্থে মো. আরিফ চৌধুরীকে পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই আদেশে কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে সংযুক্ত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. ইমরান হোসাইনের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে তাকে তার মূল কর্মস্থল সিভিল সার্কেলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে সহকারী পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক মামুন উদ্দিন আহম্মেদকে পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রশাসনের চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত সংস্থাটিতে জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়নের মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলেও তারা আশা করছেন।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







