• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২২ জুন ২০২৬, ০৭:১০ পি.এম.
দেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা। ছবি: ভিওডি বাংলা

বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ (NCD) নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সরকারের বহুমাত্রিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটির প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভা  মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (২২ জুন) সভায় দেশের ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন, যা স্বাস্থ্য খাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সভাটি পরিচালনা করেন।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, অসংক্রামক রোগ বর্তমানে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও জীবনধারাগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে এসব রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত হাঁটা ও সক্রিয় জীবনযাপন স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রোগে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই অকাল মৃত্যুবরণ করেন, যা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গত ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অংশগ্রহণে একটি ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। আজকের সভাটি ছিল সেই কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে WHO সর্বাত্মক কারিগরি সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি ছিল “সব নীতিতে স্বাস্থ্য” নীতি বাস্তবায়ন।

এই নীতির আওতায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে-প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ও স্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তঃখাতীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সরকার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আওতায়-গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচার কার্যক্রম, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রচারণা ও এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয়গুলোকে নিজ নিজ খাত অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে-সময়াবদ্ধ বাস্তবায়ন রূপরেখা, পরিমাপযোগ্য সূচক (Indicators), মনিটরিং কাঠামো, বাজেট ও সম্পদ পরিকল্পনা। 

আগামী ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এসব পরিকল্পনা প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশে হাম উপসর্গে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম উপসর্গে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু
ঝটিকা অভিযানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ
ঝটিকা অভিযানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ
স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি মিডওয়াইফ-নার্সদের নীরব বিপ্লব
স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি মিডওয়াইফ-নার্সদের নীরব বিপ্লব