• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জাতিসংঘের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে তিব্বতি নাগরিকের আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরের কাছাকাছি এলাকায় এক তিব্বতি নাগরিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন (৫২), যিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাগতভাবে উবার চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ এবং ৪২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটিকে ঘিরে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য সামনে এসেছে। নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব তিব্বত’-এর বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি তিব্বতি পতাকা বহন করছিলেন এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পোশাকের মতো একটি পোশাক পরিহিত ছিলেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের পক্ষে কিছু বক্তব্য উঠে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহতের পরিচিত একজন উবার চালক লবসাং পালজোর জানিয়েছেন, লোবগা রাংজেন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং পরে নাগরিকত্বও অর্জন করেছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, নিজ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং চীনা প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ পোষণ করছিলেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এ বিষয়ে তিনি সক্রিয় অবস্থানও নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন পালজোর।

তিব্বতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত’ দাবি করেছে, রাংজেন তিব্বতে চীনের শাসন ও বিভিন্ন আইনগত কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থানে ছিলেন। বিশেষ করে ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’ নিয়ে তার সমালোচনা ছিল বলেও সংগঠনটি জানায়।

এদিকে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিব্বত ইস্যুতে চীন ও তিব্বতীয় আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে। চীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে তিব্বতকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে তিব্বতপন্থীরা দাবি করেন, অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে স্বাধীন ছিল এবং ১৯৫১ সালে চীন তা দখল করে নেয়।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে কয়েক হাজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ৩ দেশে ৩ হাজার ৭শ’ মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ২ হাজার ৬৪৫
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির জানাজা বয়কট করতে বিভিন্ন দেশকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র