ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ১

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর এলাকার পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করেন রেহেনা বেগম নামে এক নারী। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের আলীনগর চা বাগান ফ্যাক্টরির দক্ষিণ পাশে কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে আসা চার ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে থাকা টাকা, চেক ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় পরদিন ২৩ জুন ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে পেনাল কোডের ৩৯২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই পিবিআই মৌলভীবাজার জেলার সদস্যরা ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে জেলা পিবিআই।
তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই (নিরস্ত্র) আবুল কাশেম। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়।
একপর্যায়ে তদন্তে উঠে আসে সেলিম আহমদ ওরফে অনিক ওরফে বটলা সেলিম নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য। পরে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে নগরের বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার ব্যবহৃত লাল রঙের একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছিনতাইয়ের সময় ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত সেলিমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কার্যক্রম এবং ঘটনার পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, সেলিম আহমদ ওরফে বটলা সেলিম একটি সক্রিয় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় কারাগারে থাকা অবস্থায়। কারামুক্ত হওয়ার পর তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার দিন ছিনতাইকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। রেহেনা বেগম ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর থেকেই তারা তাকে অনুসরণ করতে থাকে। পরে নির্জন এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল দিয়ে তার সিএনজির গতিরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে টাকা ও চেকসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত সেলিমের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগে ডাকাতি, ছিনতাই ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সিলেট মহানগর, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত নয়টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য