খাগড়াছড়িতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার সেতু ও সড়কের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকার সড়কও প্লাবিত হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার বিকেল থেকে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শুধু দূরপাল্লার যানবাহন নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও চলাচল করতে পারছেন না।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে। মেরুং রাজাবাড়িসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস এবং রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য