মাস্টার ট্রেইনার সনদ পেলেন ১৫ শিক্ষাবিদ

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় পরিচালিত ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ অংশ নিয়ে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে সনদ অর্জন করেছেন।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করার ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব মাস্টার ট্রেইনারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ন্যাশনাল ট্রেইনার তৈরি করা হবে, যা শিক্ষকদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ‘হিট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলা।
এ প্রকল্পের কারিগরি অংশীদার হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ উপকরণ তৈরি, প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনারদের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে।
সম্প্রতি কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত আবাসিক এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক উপাচার্য, ডিন, কোষাধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালকসহ ১৫ জন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ অংশ নেন। তাঁরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি যৌথভাবে তৈরি করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্স এইচই এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে দেশের বাস্তব চাহিদার সমন্বয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে।
১০ দিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ইন্টারঅ্যাকটিভ কর্মশালা, ব্যবহারিক অনুশীলন, দলীয় আলোচনা, কেস স্টাডি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল-
কৌশলগত সুশাসন ও নেতৃত্ব, মান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিকীকরণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী সহায়তা, শিক্ষাদানে উৎকর্ষ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির উন্নয়ন, গবেষণায় নেতৃত্ব বিকাশ ও শিল্প ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব
আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীকেন্দ্রিক এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষকদের নেতৃত্বগুণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং আধুনিক শিক্ষাদান কৌশল সম্পর্কে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্স এইচই-এর পরামর্শক ড. বেন ব্রাবন।
এ ছাড়া ব্রিটিশ কাউন্সিল, হিট প্রকল্প, স্থানীয় পরামর্শক দল এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় ১৫ জন অংশগ্রহণকারীকে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে সনদ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ পরিচালনায় অবদান রাখা দেশি-বিদেশি ফ্যাসিলিটেটরদেরও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাদান, গবেষণা, মান নিশ্চিতকরণ এবং একাডেমিক নেতৃত্বের উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হিট প্রকল্পের আওতায় এটি ছিল প্রথম ব্যাচের মাস্টার ট্রেইনার তৈরির উদ্যোগ। আগামী পর্যায়ে এই প্রশিক্ষকেরাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ন্যাশনাল ট্রেইনার তৈরি করবেন। ফলে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং একটি স্থায়ী প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে উঠবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনারদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, একাডেমিক নেতৃত্ব, গবেষণা সক্ষমতা, উদ্ভাবনী শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, হিট প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে ‘সিনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর পরবর্তী ধাপেও তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং দেশীয় বাস্তবতার সমন্বয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য আরও কার্যকর ও আধুনিক পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য