• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

শিশুদের মূলধারায় ফেরাতে ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পি.এম.
টঙ্গীতে নির্মাণাধীন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)-এর নতুন ভবনের কাজ পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাহিদ হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা
টঙ্গীতে নির্মাণাধীন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)-এর নতুন ভবনের কাজ পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাহিদ হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিতে থাকা শিশু-কিশোরদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক, মানবিক ও কার্যকর সংশোধনাগারে রূপ দিতে আগামী ৫০ বছরের জন্য একটি দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গাজীপুরের টঙ্গীতে নির্মাণাধীন ১০ তলা বিশিষ্ট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)-এর অ্যাকাডেমিক কাম ডরমেটরি ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু বা কিশোর অবহেলা কিংবা সামাজিক বঞ্চনার কারণে পিছিয়ে থাকবে না। তিনি বলেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আসা শিশুদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাদের জন্য নিরাপদ, ইতিবাচক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে তারা সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে কেন্দ্রটিতে প্রায় ৭৬০ জন শিশু ও কিশোর অবস্থান করছে। তাদের বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কৃষিকাজের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবে এবং দেশের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও মানসিক বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি।

নির্মাণাধীন ভবনের নকশা পর্যালোচনা করে মন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভবনে বিশেষ র‍্যাম্প নির্মাণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।

এ ছাড়া শিশুদের শারীরিক বিকাশের জন্য আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ এবং তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গ্রুপভিত্তিক নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও তাগিদ দেন।

সভায় মন্ত্রী শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শিশুদের সামনে কোনো অবস্থাতেই এমন কিছু রাখা যাবে না, যা তাদের মধ্যে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আনসার সদস্যদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র শিশুদের দৃষ্টিসীমার বাইরে রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

তার মতে, একটি শিশু-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হলে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে কেন্দ্রটির সঙ্গে নিকটবর্তী হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরামর্শ দেন মন্ত্রী। জরুরি চিকিৎসাসেবা দ্রুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসকদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শিশুদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বিসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি খাদ্য বরাদ্দ প্রয়োজন হলে পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুধু আবাসন বা শৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন এবং সামাজিক পুনঃএকীকরণ-সব দিক বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এতে কেন্দ্রগুলো সত্যিকার অর্থে সংশোধন ও পুনর্বাসনের আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুব, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সিঙ্গাপুরে জঙ্গিদের মিটিং থেকে ঢাকায় বড় হামলার ছক
সিঙ্গাপুরে জঙ্গিদের মিটিং থেকে ঢাকায় বড় হামলার ছক
সারিয়াকান্দি যমুনা নদীর  পার
সারিয়াকান্দি ও ধুনটে নতুন ২ নদী বন্দর, প্রজ্ঞাপন জারি
মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের: শাহে আলম