মার্কিন কংগ্রেসম্যান রো খান্নাকে 'আটক' রাখার অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

অধিকৃত পশ্চিম তীর এলাকা সফরকালে মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্নাকে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা বসতিস্থাপনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং সফরকারী দলকে নিরাপদে চলে যেতে সহায়তা করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত প্রগতিশীল এই আইনপ্রণেতা বলেন, দক্ষিণ পশ্চিম তীরের একটি এলাকায় সফরের সময় তাদের বহনকারী ভ্যানটি কয়েকজন সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারী ঘিরে ফেলে। তাদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেল ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রো খান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এমন একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম পরিদর্শন করছিলেন, যেখানে বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এরপর সশস্ত্র ব্যক্তিরা রাস্তা অবরোধ করে তাদের আটকে রাখে এবং পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ডাকে। তার দাবি, আইডিএফ তাদের পরিবর্তে বসতিস্থাপনকারীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল।
খান্নার সফরসঙ্গী ক্যামেরন কাসকি জানান, তারা এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের মতো দেখতে একদল কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে তাদের মুক্ত হতে সহায়তা করেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খিরবেত জানুতা এলাকার কাছে বসতিস্থাপনকারীরা কয়েকটি যানবাহনের পথরোধ করেছে—এমন খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে তারা ইসরায়েলি বেসামরিক ব্যক্তিদের সরিয়ে দেয় এবং যানবাহনগুলোকে গন্তব্যে যেতে দেয়। তবে এ ঘটনায় ইসরায়েলি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত
তিন দিনের পশ্চিম তীর সফরে থাকা রো খান্না ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, এই সফরের পর তার সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।
একই সপ্তাহে সম্ভাব্য আরেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী, সাবেক হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ রাহম ইমানুয়েলও ইসরায়েল সফর করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রতি সমর্থন ক্ষয় হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভাজন
গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতিকে ঘিরে মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের বামপন্থী অংশ ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কমানোর দাবি জোরালো করেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ২০১৮ সালের ৫৯ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে নেমে এসেছে ২২ শতাংশে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে এম-৪ রাইফেলের মতো হালকা অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও অর্থ বরাদ্দ রয়েছে।
‘নৈতিক পরীক্ষার’ মুখে ডেমোক্র্যাটরা
রামাল্লাহর কাছে তুরমুস আয়্যা গ্রামের একটি এলাকায় দাঁড়িয়ে রো খান্না বলেন, ফিলিস্তিন, গাজা এবং ইসরায়েল প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূলধারার নেতৃত্ব বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না।
তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে যদি কেউ রাজি না হন, গাজায় গণহত্যার অভিযোগ বা পশ্চিম তীরে বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যদি কেউ অবস্থান না নেন, তাহলে তা নৈতিকভাবে আপস করার শামিল।”
তবে ইসরায়েল বরাবরই গাজায় গণহত্যা চালানো কিংবা পশ্চিম তীরে বর্ণবৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এবং প্রায় পাঁচ লাখ ইহুদি বসতিস্থাপনকারী বসবাস করেন। অধিকাংশ দেশ এবং জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, পশ্চিম তীর একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড এবং সেখানে হাজার বছর ধরে ইহুদিদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য