• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী আটক শিবিরকে বিদায় জানিয়ে জামায়াতে নতুন যাত্রা সাদিক কায়েমের ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা নাগরিকদের অসচেতনতা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ: ডিএসসিসি প্রশাসক নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, প্রথম মামলায় দুই আসামির রিমান্ড ফেসবুকের মতো পরিচিতদের জন্মদিন মনে করিয়ে দেবে হোয়াটসঅ্যাপ পাকিস্তানে ওআইসির নারী বিষয়ক সম্মেলন শুরু শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামিয়ে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী অপরাধ দমনে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহামকে কীভাবে দেখছে বিশ্ব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও ভারতের নীতিনির্ধারকেরা এখন নজর রাখছেন বার্নহামের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি কতটা বদলাবে, আর কতটা আগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলনামূলক কম পরিচিত হলেও তার সামনে যেমন নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কঠিন পরীক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রের নজরে ট্রাম্প-বার্নহাম সম্পর্ক

ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে বার্নহাম এখনো অনেকটাই অজানা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ট্রাম্পের প্রশাসনের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে অভিবাসন নীতি, উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস উত্তোলন এবং প্রতিরক্ষা ব্যয়।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে বার্নহামও কিয়ার স্টারমারের মতো ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা ব্যয়, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনাও সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের প্রত্যাশা স্থিতিশীল সম্পর্ক

চীনের কর্মকর্তারা বার্নহামের অতীত অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছেন। ম্যানচেস্টরের মেয়র থাকাকালে তিনি চীনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

বেইজিং আশা করছে, স্টারমারের মতো বার্নহামও বাস্তববাদী নীতি অনুসরণ করবেন। তবে ব্রিটেনে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনকে চীনের অনেক বিশ্লেষক রাজনৈতিক অস্থিরতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

রাশিয়ার প্রত্যাশা নীতিতে পরিবর্তন হবে না

মস্কোর ধারণা, ব্রিটেনের নেতৃত্ব বদলালেও রাশিয়ার প্রতি লন্ডনের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে রাশিয়া-নীতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের সম্ভাবনা খুবই কম।

রুশ গণমাধ্যম বার্নহামকে ইউক্রেনের সমর্থক এবং রাশিয়ার সমালোচক হিসেবে তুলে ধরছে।

ইউক্রেনের উদ্বেগ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্রিটেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অব্যাহত থাকা। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর এটি হবে ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে ব্রিটেনের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী।

কিয়েভের আশা, নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটিশ সমর্থনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

ইউরোপের দৃষ্টি প্রতিরক্ষা ব্যয় ও ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো জানতে চাইছে, বার্নহাম স্টারমারের শুরু করা ব্রিটেন-ইইউ সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন কি না।

একই সঙ্গে ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকারও পূরণ করবে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর।

ফ্রান্স চায় নীতির ধারাবাহিকতা

ফ্রান্সের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বার্নহাম ইউরোপপন্থী হলেও যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের পক্ষে নন। ফলে স্টারমারের সময় শুরু হওয়া সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেই তাদের প্রত্যাশা।

প্যারিস বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ইউক্রেন ইস্যু এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

ভারতের অগ্রাধিকার বাণিজ্য ও অভিবাসন

ভারতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতির ধারাবাহিকতা। নয়াদিল্লি আশা করছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে।

এ ছাড়া ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে দেশটি।

বিশ্বজুড়ে কৌতূহল

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ন্যাটো, বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা- সব ক্ষেত্রেই তার নীতিগত অবস্থান ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: বিবিসি

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বার্তা
ছবি: ভিওডি বাংলা
বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে রাতে অক্সফোর্ডে সেমিনার, ডাকা হয়েছে জয়কে
ছবি: সংগৃহীত
১০০ রুপির ভাঙতি না থাকায় মন্ত্রীকেই নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর