আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দণ্ডিত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশে প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেফতার করে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে ভারত সরকারের কাছে তাকে ফেরত চেয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনাও নেই। আওয়ামী লীগের ইতিহাস জনগণকে হত্যা, দমন-পীড়ন ও বর্বরতার ইতিহাস। দল হিসেবেও আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা হবে। আইনের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে চিরতরে পরাজিত করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে পালিয়ে থাকা কিংবা বিদেশে অবস্থানরত দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ পলাতকদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে দ্রুত ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানিয়েছে। গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেবে—স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পরিণতি কী হতে পারে। এ দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানও তার ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষার্থীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।
দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে যাতে আর কখনো স্বৈরাচারের কবলে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্লোগাননির্ভর সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান ঘটেছে। ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের বিদায় দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, সহ-সভাপতি আমানুল্লাহ আমান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ভিওডি বাংলা/আর








মন্তব্য