{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশে-আইএলও অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পি.এম.
শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো
ছবি: সংগৃহীত

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো। বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি উল্লেখ করেন, শ্রম খাতের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

আরিফুল হক চৌধুরী গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলও-র ১০টি মৌলিক কনভেনশনই অনুসমর্থন করেছে, যা বৈশ্বিক শ্রম পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশোধন, একটি ত্রিপক্ষীয় 'ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম' গঠন এবং স্বাধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে 'এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম' জাতীয়করণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন 'কর্মসংস্থান অধিদপ্তর' প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে, যার মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করে আত্মকর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে কর্মী পাঠাতে সরকার কাজ করছে।

প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও-র কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। শ্রম পরিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগসহ আইএলও-র রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।

এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও মাইলফলকগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে আইএলও-র ধারা ২৬ এর অধীনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য তিনি মহাপরিচালকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের শ্রম খাতের যুগান্তকারী সংস্কার, বিশেষ করে ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন এবং ২০২৬ সালের নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গতিশীল নেতৃত্ব ও সংস্কারমুখী ভাবধারার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

ইপিজেডসহ সকল কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলও বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং আগামী অক্টোবর মাসের প্রস্তাবিত যৌথ মিশনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে নীতিগত ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, আইএলও-র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইএলও-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের বৈঠক
ছবি: ভিওডি বাংলা
জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর
ছবি: ভিওডি বাংলা
কওমি মাদ্রাসার ‘রেজিস্ট্যান্স ডে’ দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলবেন ইশরাক