‘টাকা দিয়ে কয়জনকে ঠেকাব’, ভাইরাল অডিও নিয়ে কারারক্ষীর ক্ষোভ

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী আব্দুস সাত্তারের অবৈধ অর্থ লেনদেনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আসামির ‘চালান’ ও টাকা আদান-প্রদানসংক্রান্ত ওই অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অডিওতে সাত্তারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ডিউটিতে চলে যাচ্ছি, আর কথা বলতে পারব না। চালান যদি রাতে রেডি না করে, তাহলে কাল চালান দিতে পারব না। আর কাল চালান না দিতে পারলে ওই বেটার টাকা ফেরত দিতে হবে। আমাকে সন্ধ্যায় ডাকছিল, যেভাবেই হোক কালকে চালানের ব্যবস্থা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কালকে হান্ড্রেড পারসেন্ট চালান দিতে হবে, কোনোভাবেই মিস করা যাবে না। চালান করে দিতে না পারলে টাকা ফেরত দিতে হবে। কারণ, আমি আরেকজনের মাধ্যমে টাকা নিয়েছি। বিষয়টি দেখেন, আর মিনহাজ যদি চলে যায়, তাহলে টাকা স্যারকে দেবেন, নাকি কীভাবে দেবেন—দিয়ে দিয়েন।’
কারাগারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা কারাগারে প্রায় সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ও ডিউটি বণ্টনে আব্দুস সাত্তারের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নতুন চাকরিতে যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি ‘সিআইডি ডিউটি’র মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব পান, যা নিয়ে সাধারণ সহকর্মীদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া মোবাইল ডিউটি, সাক্ষাৎ কক্ষ, স্লিপ লেখা ও আরপি ডিউটিসহ বিভিন্ন পদে থাকাকালীন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে কারারক্ষী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আপনি রেকর্ড কোথায় পাইলেন? একপক্ষের কথায় তো কিছু হয় না। এখানে শুধু আমার কণ্ঠ। সাংবাদিকরা বহুত বিরক্ত করছে। আমি একটা ছোট চাকরি করি, মানসম্মান নিয়ে টানাটানি করে লাভ কী? বর্তমান রেকর্ডের যুগে অনেক কিছুই হয়। এই ভয়েস নিয়ে বহুত নিউজ হইছে, অযথা আর হয়রানি করবেন না। সামান্য বিষয় নিয়ে আমি টাকা দিয়ে কয়জনকে ঠেকাব? এই রেকর্ড যন্ত্রণায় শেষ করে দিল।’
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদেরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/এফএ








মন্তব্য