মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি
ক্যালেন্ডারে এক বছর, স্বজনদের মনে যেন গতকাল

আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতই যে যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল। সন্তানকে নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যেতে অপেক্ষারত ছিলেন অনেক অভিভাক। কে জানত বাড়ি আর ফেরা হবে না। কে জানতো কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই পরিচিত পরিবেশ রূপ নিবে ধ্বংসস্তূপে। শ্রেণিকক্ষেই আগুনে পুড়ে কয়লা হবে আদরের সন্তানরা।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। হয়তো অনেকেই নিজের স্মৃতি থেকে দিনটি মুছে ফেলতে চাইবেন। কিন্তু ভয়ংকর স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে।
২০২৫ সালের দিনটি ছিল সোমবার। দুপুরে সোয়া ১টা নাগাদ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের জঙ্গিবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহুর্তেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে যায় ছোট্টো শিশুদের কোমল শরীর।
এ ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু। সেদিন প্রাণ হারান উড়োজাহাজের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও।
দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজনের মরদেহ আগুনে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে প্রথমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করে। এতে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার, আহত শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনদের কাছে ২১ জুলাই এখনো এক বিভীষিকার দিন। অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অনেক পরিবার আজও হারানো সন্তান কিংবা স্বজনের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সেদিনের সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণ এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাতে দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম জানান, কর্মসূচির প্রথমদিন ছিল সোমবার (২০ জুলাই)৷ সেদিন মাইলস্টোনের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসসহ প্রতিষ্ঠানের সব শাখার বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাহিত নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কবর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জিয়ারত এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়েছে।
আজ ট্র্যাজেডির দিনটিকে স্মরণ করে মাইলস্টোনের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়িতে দুর্ঘটনাস্থল ক্যাম্পাসে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সশ্রদ্ধ সালাম, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মাহফিল।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং দ্বিতীয় পর্ব বিকেল ৩টায়।
উল্লেখ্য, ঘটনার বছর পেরলেও হতাহতদের ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। এবিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিভাবকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অন্তর্বতী সরকার যে অর্থ দিতে চেয়েছে তার যথেষ্ট নয়। আহত অনেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচই এর কয়েক গুণ।
অপরদিকে, নির্বাচিত সরকারের তরফ থেকেও নতুন করে এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবমিলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দিন কাটছে চরম হতাশায়।
ভিওডি বংলা/বিন্দু








মন্তব্য