• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

মোদির সরকার ঘিরে নতুন সংকট, আশার আলো বিরোধীদের

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
দিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এই আন্দোলন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে নতুন সুযোগও তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে সিজেপি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতারা দাবি করেন, শুধু ক্ষমতাসীন সরকার নয়, বিরোধী দলগুলোর প্রতিও তরুণদের আস্থা কমে গেছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেও শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রধান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান কেউ দিতে পারেনি।

সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর আন্দোলনের নেতারা বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্যে সমর্থনের আহ্বান জানান। পরদিন কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল আন্দোলনের পাশে দাঁড়ায় এবং পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে সিজেপি জানিয়েছে, তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তাদের মূল দাবি হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের সমর্থন আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তি ও জাতীয় পরিচিতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার হলে শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

২০১৪ সালে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণার মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদি ধারাবাহিকভাবে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসংস্থান সংকট, নিয়োগে অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

ভারতের ১৪২ কোটির বেশি মানুষের অর্ধেকেরও বেশি বয়স ৩০ বছরের নিচে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৯ সালে হওয়ার কথা থাকলেও তার আগে উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত স্পষ্টভাবে গড়ে উঠছে। তার ভাষায়, আন্দোলনের সুস্পষ্ট নেতৃত্ব ও কৌশল না থাকলে প্রশাসনের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণেই বিরোধী দলগুলো আন্দোলনকারীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।

এদিকে সরকারপন্থী কয়েকটি সংবাদমাধ্যম অভিযোগ করেছে, বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে আন্দোলনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিক্ষোভ

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

আটকের আগে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে দেশের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের জবাবদিহির অভাবই বর্তমান সংকটকে আরও গভীর করেছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি এখনো প্রকাশ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেননি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, তরুণদের সমর্থন অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে এ প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে সিজেপির এক মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করলেও আন্দোলনের মঞ্চকে দলীয় কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে দিতে চান না।

ভিওডি বাংলা/জা


 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফাইল ছবি
জেল খাটাকালীনও মডেলিংয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণীদের ধর্ষণ
ছবি: সংগৃহীত
মোদির বাড়ির সামনে থেকে রাহুল গান্ধী আটক
ছবি: সংগৃহীত
মোদির বাসভবনের সামনে লাঠিচার্জ, সরিয়ে নেওয়া হলো রাহুল গান্ধীকে