• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

ফ্রান্সে দাবানলের তাণ্ডব, নৌকায় পালাচ্ছেন হাজার মানুষ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহিত
ছবি: সংগৃহিত

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ‘ক্যাপ ফেরে’ উপদ্বীপে (লেজ-ক্যাপ ফেরে) ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পুরো উপদ্বীপ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শত শত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার গিরোন্দ অঞ্চলের সাউমোস এলাকায় শুরু হওয়া দাবানল কয়েক দিন ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর (প্রায় ২১ হাজার ৫০০ একর) বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী কাজ করলেও প্রবল বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গিরোন্দ অঞ্চলের প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস শুক্রবার ভোরে ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ খালি করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রধান সড়ক ডি-১০৬ দিয়ে বোর্দোর দিকে চলে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ঘাট থেকে নৌকায় করেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার গিরোন্দ অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের বেশিরভাগই উপদ্বীপের বিভিন্ন ক্যাম্পসাইটে ছুটি কাটাতে আসা পর্যটক।

এদিকে আটলান্টিক উপকূলের লঁদ অঞ্চলের বিসকারোস শহরের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরেকটি বড় দাবানল শুরু হয়। আগুনের কারণে বিসকারোস ও পারঁতিস-আঁ-বোর্ন এলাকা থেকে ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিসকারোস থেকে প্রায় ১৮ হাজার এবং পারঁতিস-আঁ-বোর্ন থেকে ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। খালি করা হয়েছে বাড়িঘর, ক্যাম্পসাইট, একটি বৃদ্ধাশ্রম ও একটি গ্রীষ্মকালীন শিশু ক্যাম্প।

শুক্রবার সকালে বিসকারোস শহরের কেন্দ্র থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, দেশের দাবানল পরিস্থিতি "অত্যন্ত উদ্বেগজনক", বিশেষ করে গিরোন্দ অঞ্চলে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে অগ্নিনির্বাপণ বিমান দ্রুত ফ্রান্সে পৌঁছাবে।

প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস বলেন, দাবানল মোকাবিলায় বিপুলসংখ্যক স্থল ও আকাশপথের অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট কাজ করছে। একই সঙ্গে খালি করা এলাকায় লুটপাট ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নতুন কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রতিবেশী স্পেনেও দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগলেসিয়াস এবং আভিলা প্রদেশের বুরগোহন্দো এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দেশটির সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। শুক্রবার সকালে কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের বিস্তার কিছুটা ধীর হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নিরাপত্তার স্বার্থে আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/আরআর/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পুরনো ছবি: সংগৃহিত
টানা ১৩তম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ছবি: সংগৃহিত
ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহিত
প্রশ্নফাঁসে আরও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা মোদির